জ্যান্ত দুর্গার আরাধনায় মানবসেবা, করকাইয়ে দুঃস্থ মা ও পড়ুয়াদের নতুন বস্ত্র বিতরণ
দিব্যেন্দু দাস, রঙ নিউজ,
করকাই, পশ্চিম মেদিনীপুর:
দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব ও সম্প্রীতির মিলন। আর সেই উৎসবের আনন্দ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত মানবসেবার মহিমা। সেই মানবিক ভাবনাকে সামনে রেখে করকাই রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এ বছরও শ্রীশ্রী দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত হল দুঃস্থ মা ও ছাত্রছাত্রীদের নতুন বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহতী কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ জন মায়ের হাতে এবং ৫০ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। পুজোর আগে নতুন পোশাক পেয়ে খুশি নর নারায়ণ ও জ্যান্ত দুর্গারা । শুধু বস্ত্র বিতরণই নয়, এদিন উপস্থিত সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর ফলে উৎসবের আনন্দে একসঙ্গে সামিল হওয়ার সুযোগ পান সকলে।

এই উদ্যোগের অন্যতম বিশেষ দিক হল, প্রায় ২০ জন দাদা, দিদি, ভাই ও ভক্তের আর্থিক সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে এই ‘জ্যান্ত দুর্গা’ পূজার আয়োজন। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও মানবিক উদ্যোগের ফলেই সমাজের অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রয়াস বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও একবার ফুটে উঠেছে স্বামী বিবেকানন্দের সেই অমোঘ বাণী – ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা, মানবসেবাই প্রকৃত ধর্ম’ —এই মহান আদর্শ। দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি মায়েদের সম্মান জানানো এবং শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর এই প্রয়াস সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আড়ম্বরের পরিবর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের মুখে হাসি ফোটানো এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই যে পুজোর প্রকৃত সার্থকতা, এই কর্মসূচি যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।

এই মহতী উদ্যোগকে সফল করে তোলার জন্য আর্থিক সহায়তাকারী প্রত্যেক দাদা, দিদি, ভাই ও ভক্তের প্রতি প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক শুভাশীষ রুদ্র আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েছেন। পাশাপাশি, নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে সকলের জন্য মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্থা করা পর্যন্ত যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রতিও জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন, নমস্কার ও প্রণাম।
করকাই রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ সেবা প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ শুধু একটি বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুর্গোৎসবের আবহে এই ‘জ্যান্ত দুর্গা’ পূজা সমাজকে মনে করিয়ে দেয়—মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস, আর মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই ঈশ্বরের আরাধনা পূর্ণতা পায়।

