শ্রীলঙ্কার পাশে ভারত, ২৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি বেইলি ব্রিজের নতুন চালান হস্তান্তর

শ্রীলঙ্কার পাশে ভারত, ২৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি বেইলি ব্রিজের নতুন চালান হস্তান্তর

 

ঘূর্ণিঝড় ‘দিথওয়াহ’-পরবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে জোর, ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন প্যাকেজে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

 

দিয়া সাহা | রঙ নিউজ

কলকাতা, ৯ আগস্ট ২০২৬

 

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ‘দিথওয়াহ’-পরবর্তী শ্রীলঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ও পরিকাঠামো পুনর্গঠনে ফের বড় পদক্ষেপ ভারতের। শনিবার, ৮ আগস্ট শ্রীলঙ্কাকে ২৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি ওজনের বেইলি ব্রিজের একটি নতুন চালান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুনর্গঠন সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ।

 

ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার শ্রীলঙ্কার সমবায় উন্নয়ন উপমন্ত্রী উপালি সমরসিংহের হাতে এই বেইলি ব্রিজের চালান হস্তান্তর করেন। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেতুগুলি স্থাপনের দায়িত্বে থাকবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা।

ঘূর্ণিঝড় ‘দিথওয়াহ’-এর প্রভাবে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে বহু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে ভারত।

 

ভারতের ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুনর্গঠন প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে সড়ক, রেল ও সেতু যোগাযোগ পুনরুদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে সহায়তা। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্যাকেজের মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের concessional Lines of Credit এবং ১০০ মিলিয়ন ডলারের grant component রয়েছে।

 

এর আগেও ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রকৌশলীরা শ্রীলঙ্কায় বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ক্যান্ডি–রাগালা সড়কে একটি ১০০ ফুট বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। ওই প্রকল্পে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৯ Engineer Regiment-এর সদস্যরা কাজ করেছিলেন।

 

নতুন চালানগুলির মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহণ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করতেও এই পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

‘Neighbourhood First’ নীতিতে শ্রীলঙ্কার পাশে নয়াদিল্লি

 

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরির সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সফরও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কলম্বো সফরে তিনি ভারতের ‘Neighbourhood First’ নীতি এবং ‘Vision MAHASAGAR’-এর আওতায় শ্রীলঙ্কার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে শ্রীলঙ্কায় এটি ছিল বিক্রম মিসরির প্রথম একক সরকারি সফর। সফরকালে তিনি শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়াকা, প্রধানমন্ত্রী হারিনি অমরাসুরিয়া এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথের সঙ্গে বৈঠক করেন।

 

এছাড়াও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রসচিব অরুণি রানারাজার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। বিরোধী দলনেতা সজিত প্রেমাদাসার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার তামিল এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি।

 

বৈঠকগুলিতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প এবং পারস্পরিক উদ্যোগগুলির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের পর ভারতের পুনর্গঠন সহায়তার বাস্তবায়ন নিয়েও দুই পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।

 

রেল ও পশুপালন খাতেও আর্থিক সহযোগিতা

 

দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকের সময় ভারতীয় রুপিতে দুটি ঋণ চুক্তি বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে রেলওয়ে উদ্যোগের জন্য ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং পশুপালন ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিসানায়াকার উপস্থিতিতে ভারতের হাই কমিশনার এবং শ্রীলঙ্কার ট্রেজারি সচিবের মধ্যে চুক্তিগুলি বিনিময় হয়।

 

সব মিলিয়ে বেইলি ব্রিজ হস্তান্তর থেকে শুরু করে পুনর্গঠন সহায়তা, রেল যোগাযোগ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত-শ্রীলঙ্কা সহযোগিতা নতুন গতি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী পুনর্গঠনের পাশাপাশি এই উদ্যোগগুলি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকেও আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *