৮০তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: দ্রুত মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: দ্রুত মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান

 

দিয়া সাহা, রঙ নিউজ

কলকাতা, ভারত

 

নয়াদিল্লি: দেশের রাজনৈতিক পরিসরে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানান।

 

লালকেল্লার প্রাচীর থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলিকে এগিয়ে এসে মহিলাদের শক্তি ও সক্ষমতাকে মর্যাদা দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে দেশের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাঁরা আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং পৌর কর্পোরেশনের মতো স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থায় মহিলাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, বিপুল সংখ্যক মহিলা জনপ্রতিনিধি বর্তমানে স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

 

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ২০২৩ সালে সংসদের উভয় কক্ষে এই আইন পাস হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। তবে সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবিধানিক ও নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মহিলাদের বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নারী প্রতিনিধিত্বকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে না রেখে বাস্তবায়নের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

 

স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান তাই দেশের নারী প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *