‘তবুও রাণার ছোটে’— আত্মপ্রকাশ ‘বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চ’-এর
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কোঅর্ডিনেটর
রঙ নিউজ

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। আর সেই বিশেষ দিনেই কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মদিনকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল ‘বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চ’। ১৫ অগস্ট বিপ্লবী লীলা রায় সভাগৃহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের নাম ছিল—‘তবুও রাণার ছোটে’। কবি-সংগঠক সৌমিত বসুর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘আগুনের পরশমণি’ গান দিয়ে।

এরপর কবি-সংগঠক সৌমিত বসুর প্রাক্-কথনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগের বেদনার ইতিহাস, উঠে আসে আইনজীবী স্যার সাইরিল র্যাডক্লিফের নাম— যিনি ভারত বিভাজনের সীমা বা মানচিত্র এঁকেছিলেন। ইতিহাসের সেই ক্ষত থেকে বর্তমানের বাংলা ভাষার সংকটের দিকে আলোচনার সূত্র এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। আজকের সময়ে বাংলা ভাষার বিপন্নতা ও নানা প্রতিকূলতার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

সৌমিত বসু জানান, কিছু সমমনস্ক বাংলা ভাষাপ্রেমী, সাহিত্য ও শিল্পানুরাগী মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ‘বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চ’। তাঁদের লক্ষ্য, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার কাজ নিরন্তর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। ভাষার এই সংকটময় সময়ে বাংলা ভাষার চর্চা, প্রসার ও সংরক্ষণের দায়কে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে আসার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রাক্-কথনের পর একে একে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মঞ্চে কবিদের কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চের প্রথম আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার এই সম্মিলিত আয়োজন হয়ে ওঠে বাংলা ভাষাকে ঘিরে এক আন্তরিক সাংস্কৃতিক উচ্চারণ।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে মঞ্চের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ‘বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চ’-এর সক্রিয় সদস্য নাট্যকর্মী পিনাকী মজুমদার এবং সঞ্চালিকা দ্যুতি দত্তগুপ্ত ও পিয়ালী চক্রবর্তী। তাঁদের বক্তব্য, বাংলা ভাষার প্রতি দায়বদ্ধ সমস্ত সাহিত্যপ্রেমী, কবি, শিল্পী এবং ভাষানুরাগী মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।

স্বাধীনতার ৮০ বছরে দাঁড়িয়ে তাই ‘বাংলা ভাষা প্রসার মঞ্চ’-এর আত্মপ্রকাশ কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নয়—বাংলা ভাষাকে আগলে রাখা, তার চর্চা ও প্রসারকে অব্যাহত রাখার এক সম্মিলিত অঙ্গীকার। ভাষার এই পরম সংকটের সময়ে সেই অঙ্গীকার কতটা সুদূরপ্রসারী হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।

