সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই রইল পায়েলের
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
বিরল ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই প্রয়াত হলেন অশোকনগরের পায়েল হালদার। মঙ্গলবার রাতে মুম্বইয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। পায়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে অশোকনগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড-সহ গোটা এলাকায়
র্যাবডোমায়োসারকোমা নামে বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন পায়েল। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই তরুণীর স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়ার। কঠিন অসুস্থতার মধ্যেও সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে রেখেই চালিয়ে গিয়েছিলেন বাঁচার লড়াই।
২০২৩ সালে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পায়েলের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর টাটা মেডিক্যাল সেন্টারে দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলে। প্রায় দেড় বছর চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল। সেই সময় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে নেতাজি শতবার্ষিকী কলেজে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন পায়েল। কিন্তু ফের অসুস্থতা ফিরে আসায় থেমে যায় তাঁর পড়াশোনা এবং সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন।
উন্নত চিকিৎসার আশায় সম্প্রতি পায়েলকে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলছিল চিকিৎসা। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সকালে তাঁর প্লেটলেট কাউন্ট নেমে আসে প্রায় ৪০ হাজারে। চিকিৎসকদের মতে, কেমোথেরাপি দেওয়ার জন্য প্লেটলেট কাউন্ট অন্তত ১ লক্ষ ২০ হাজারের কাছাকাছি থাকা প্রয়োজন। ফলে সেই সময় কেমোথেরাপিও শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
ক্রমশ খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পায়েলের। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে অল্প পরিমাণে, প্রায় আধ কাপ লিকুইড দুধজাতীয় খাবার দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ক্যানসার মুখমণ্ডলের ভিতরের অংশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। ফুলে গিয়েছিল মুখের বিভিন্ন অংশ। বাড়ছিল শারীরিক দুর্বলতাও।
পায়েলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন সামনে আসার পর অশোকনগর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বহু মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থসাহায্য করেছিলেন অনেকে। সেই সাহায্যের অর্থেই উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
পায়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করেন বহু মানুষ। তাঁর লড়াই এবং বাঁচার অদম্য ইচ্ছার কথা স্মরণ করে অনেকেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। যে তরুণী বলেছিলেন, “আমি বাঁচতে চাই, আমি সাংবাদিক হতে চাই”, তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হল না।
পরিবারের তরফে পায়েলের দেহ অশোকনগরে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। শোকস্তব্ধ পরিবার, প্রতিবেশী এবং চিকিৎসার সময় পাশে দাঁড়ানো অসংখ্য মানুষ। অশোকনগরের মানুষের কাছে পায়েল শেষ পর্যন্ত শুধু এক ক্যানসার আক্রান্ত তরুণী হয়ে থাকলেন না—তিনি হয়ে রইলেন লড়াই, স্বপ্ন এবং বাঁচার অদম্য আকাঙ্ক্ষার এক স্মরণীয় প্রতীক।
