দুইবার দুর্গাপূজা

দুইবার দুর্গাপূজা

নম্রতা মুখার্জী, রঙ নিউজ

 

২০২৮ সালের দুর্গাপূজা নিয়ে যে “পঞ্জিকা বিতর্ক” তৈরি হয়েছে, তার মূল কারণ হলো একই বছরে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার দুর্গাপূজা । অতীতে ১৯৮০ সালে ঠিক এমন একটি বিরল ঘটনা ঘটেছিল। এই বিভ্রান্তির মূল কারণ বাংলা পঞ্জিকার দুটি ভিন্ন গণনা পদ্ধতি—বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত (দৃকসিদ্ধ) এবং সূর্যসিদ্ধান্ত (গুপ্তপ্রেস বা বেণীমাধব শীল)।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত (দৃকসিদ্ধ) আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। বর্তমানে আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের আসল অবস্থান ঠিক যেমন, এই পঞ্জিকায় তিথি ও নক্ষত্র সেই অনুযায়ী হিসাব করা হয়। বেলুড় মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশন অক্ষরে অক্ষরে এই বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মেনে পূজা করে।

 

সূর্যসিদ্ধান্ত হলো বহু প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গাণিতিক নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের যে সামান্য পরিবর্তন বা আয়নচলন (Precession) হয়েছে, তা এই প্রাচীন পদ্ধতিতে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয় না। বাংলার প্রায় সমস্ত বারোয়ারি পূজা, ক্লাব এবং বনেদি বাড়ির পূজা এই সূর্যসিদ্ধান্ত অনুসারেই হয়ে থাকে।

পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের তিথি গণনায় এই দুই পদ্ধতির মধ্যে এক বিশাল ফারাক তৈরি হচ্ছে।

 

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পূজা : এই গণনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখের মধ্যেই দুর্গাপূজা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বেলুড় মঠ ও বিভিন্ন মঠ-মিশনে পূজা হয়ে যাবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে।

 

সূর্যসিদ্ধান্ত মতে পূজা: এই গণনা অনুযায়ী তিথি প্রায় ১৫ দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সাধারণ বারোয়ারি ক্লাব ও বনেদি বাড়ির পূজা অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে।

 

একই রাজ্যে ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার পূজা হলে সাধারণ মানুষের মনে উৎসবের আমেজ নিয়ে যেমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তেমনই বড় প্রশ্ন ওঠে সরকারি ছুটি নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *