বিধান চন্দ্র রায়—স্টুডিও পাড়ায়।
অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়:রঙ নিউজ
এক বহুমুখী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বিধান চন্দ্র রায়। পরতে পরতে রয়েছে তার বাঁক। সেই প্রবাদপ্রতিম জীবন আধারেই তৈরি হচ্ছে বাঙলা ছবি। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা যাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা এসভিআইএফ প্রোজেক্ট টি ফোকাস করতে চলেছে।পশ্চিমবঙ্গের রূপকার বলতে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা করি।
একাধারে চিকিৎসাজগতে প্রবাদপ্রতিম আর একদিকে রাজনীতিবিদ। তদানীন্তন সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন হয়েও ভোলেননি নিয়মিত রোগী দেখা। এবার এই মহাজীবন নিয়ে তৈরি হতে চলেছে জীবনচিত্র। ইতিমধ্যে এগিয়েছে কথাবার্তা। আগামী বছরের গোড়া থেকেই শুটিং শুরু হ ওয়ার কথা।
বিধান চন্দ্র রায়ের কথা উঠলেই স্বভাবতই চলে আসে কল্যাণী দেবির কথা। কল্যাণী দেবি কে ছিলেন তা নিয়ে আজও বিতর্ক বর্তমান। তিনি ছিলেন বিধান চন্দ্র রায়ের প্রেমিকা। যাকে না পেয়ে তার স্মৃতিতে মানুষটি গড়ে তুলেছিলেন আস্ত একটি শহর “কল্যাণী”।
কল্যাণী দেবি ছিলেন বিখ্যাত চিকিৎসক নীলরতন সরকারের কন্যা। শোনা যায় কল্যাণী দেবি কে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে নীলরতন এর সঙ্গে দেখা করতে যান স্বয়ং বিধান রায়। তৎকালীন ডাকসাইটে চিকিৎসক নীলরতন সরকার রাজি হননি মেয়েকে এমন এক তরুণের সঙ্গে বিয়ে দিতে। তিনি স্পষ্ট ই জানিয়েছিলেন, যে তার মেয়ে হাত খরচের যে টাকা পান সেই টাকা এই তরুণ চিকিৎসক উপার্জন করেন না।
কিছুটা জেদের বশেই উচ্চশিক্ষায় মন দেন বিধান চন্দ্র। বাকিটা ইতিহাস। আজীবন অকৃতদার থেকেছেন তিনি। আর সেই প্রেমকে অমর করে দিয়ে গেলেন কল্যাণী দেবি —স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণ করে। প্রেমিকার স্মৃতিকে ইতিহাসের পাতায় তুলে দিলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, গড়ে তুললেন সাধের “কল্যাণী”। এভাবেই প্রেমকে স্বপ্নের সঙ্গে একাত্ম করে রেখে গেলেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়– এক শহরের ইতি কথায়।
