মায়ের কোলে ফিরল আট বছরের জোয়াল
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ ধসে যখন সর্বত্র শুধুই মৃত্যু, নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে হাহাকার—সেই অন্ধকারের মধ্যেই মিলল এক টুকরো আশার আলো। দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর মায়ের কোলে ফিরে এল আট বছরের জোয়াল ঘালে। কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে শুক্রবার মা মাট্টি মায়া তামাংয়ের সঙ্গে তার পুনর্মিলনের দৃশ্য আবেগে ছুঁয়ে যায় সকলকে।
গত বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় ল্যাংটাং লিরুং পর্বত থেকে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ প্লাবন নামে। মুহূর্তে জল, পাথর ও কাদায় তছনছ হয়ে যায় এলাকা। সেই সময় স্কুল থেকে প্রাণ বাঁচাতে জঙ্গলের দিকে ছুটে গিয়ে একটি গাছে উঠে পড়ে জোয়াল। গুরুতর জখম অবস্থায় পরের দিন তাকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়। ভাঙা পা ও মুখে ক্ষত নিয়েও শিশুটি তখন আশ্চর্যজনকভাবে স্থির ছিল।
অন্যদিকে, সন্তানদের খুঁজতে এক আশ্রয়কেন্দ্র থেকে অন্য আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছিলেন তার ২৮ বছরের মা। একাধিক তালিকায় নাম না পেয়ে মাট্টি মায়া ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তানই হয়তো আর বেঁচে নেই। পরে সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, জোয়াল জীবিত এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডু পাঠানো হয়েছে। তাঁর রাজধানী পৌঁছনোর ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।
উদ্ধারের সময় হাসপাতালে যেতে রাজি হচ্ছিল না জোয়াল। পুলিশকর্মীরা তার হাতে ১০ টাকার দুটি নোট দেন। সেই নোট শক্ত করে আঁকড়ে ধরেই হাসপাতালে যায় সে। জোয়ালের কথায়, ধস ও জলের তোড়ে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেলেও সে ভয় পায়নি।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ে অন্তত ১৭ হাজার শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫৮০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ভয়াবহতার মাঝেও জোয়ালের ফিরে আসা যেন মায়ের কাছে নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ার গল্প।
জাপানে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত জোয়ালের বাবাও সন্তানের কাছে ফিরতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে মাট্টি মায়ার মুখে অবশেষে ফুটেছে হাসি। তাঁর কথায়, “ও খুব দুষ্টু ছেলে। হাড় ভাঙার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।”
