মেধাবী চিকিৎসক থেকে ভবঘুরে–ডাক্তার সৌরভ ঘোষ।
অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়:রঙ নিউজ
প্রেসক্রিপশন লেখা থামে না, জীবন কিন্ত থেমে গেছে বহু আগেই। এক সময়ের মেধাবী চিকিৎসক আজ পথের ভবঘুরে–মানসিক অসুস্থতার নিষ্ঠুর গ্রাসে ডাঃ সৌরভ ঘোষ।
দক্ষিণ কলকাতার নাকতলা, রামগড় কিম্বা বাঘা যতীন অন্চলের সরু গলি পথে মাঝে মাঝেই দেখা যায় এক ভবঘুরেকে। অগোছালো চুল, লম্বা দাড়ি, ছেঁড়া পোশাকে। সারা শরীরে অনাদরের গন্ধ। অনেকের কাছেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে। কিন্তু এই অবহেলিত মানুষটার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসমাপ্ত স্বপ্ন, এক ভেঙে পড়া ইতিহাস—ডাক্তার সৌরভ ঘোষ।
কাগজ কলম হাতে দিলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। চোখে হটাৎ জ্বলে ওঠে আলো। হাসিমুখে একের পর এক ওষুধের নাম লিখে চলেন। প্রেসক্রিপশনের শেষে অবশ্যই লেখেন নিজর নাম, ডিগ্রী, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার। নিজের পরিচয় আজও হারাতে রাজি নন। আজ যাকে সবাই চিনছে এক ভবঘুরে হিসেবে, এক সময় তিনি ছিলেন নীল রতন মেডিকেল কলেজের কৃতি মেধাবী এক ছাত্র। নাকতলা হাই স্কুল থেকে ১৯৯৭সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে, জয়েন্ট এন্ট্রান্সে উজ্বল র্্যাঙ্ক করে মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছিলেন।
পারিবারিক প্রেক্ষাপটেও ছিল মেধার প্রতিচ্ছবি। দিদি, ভাই–তিনজনেই ছাত্রজীবনে অত্যন্ত কৃতী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তিন ভাই বোনের জীবনেই বাসা বাঁধে মানসিক অসুস্থতা। দিদি সাথী ঘোষ ও মেডিকেল পাশ করেছিলেন। কিন্তু মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছর আগে তার মৃত্যু হয়। ছোট ভাই গৌরব ঘোষ-যাদবপুর থেকে ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা কৃতি মেধাবী ছাত্র–তিনি ও মানসিক অসুস্থতায় মারা যান। বাবা-মা তার আগেই প্র য়াত। একটার পর একটা ধাক্কা তাঁর জীবনটাকে ভেঙে চূরে দেয়। পাড়ার কিছু মানুষ আজও তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন মানবিকতায়।
যে মানুটার রোগ সারানোর কথা ছিল, আজ সেই মানুষটার লড়ছেন নিজের অদৃশ্য এক রোগের সঙ্গে। কলম থামেনা থেমে গেছে জীবনের স্বাভাবিক গতিটা। আজও যদি কেউ এসে বলেন “ডাক্তারবাবু একটা ওষুধ লিখে দেবেন? ‘ তিনি লিখবেন। অবলীলায়। কারণ কোথাও গভীরে, তিনি এখনও একজন ডাক্তার ই।
৬.১০.২৬
