খালি পায়ে শাড়ি পরে ম্যারাথনে প্রথম রামাবাই

খালি পায়ে শাড়ি পরে ম্যারাথনে প্রথম রামাবাই

 

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

পরনে অতি সাধারণ আটপৌরে শাড়ির সঙ্গে হাতে ধরা একজোড়া চটি। লক্ষ্য প্রথম স্থান অধিকার করা। তাহলেই মিলবে প্রথম পুরস্কারের ৩০০০ টাকা যা দিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো যাবে। এক পেট খিদে আর লড়াই করার অদম্য জেদ সম্বল করে ট্র্যাক প্যান্ট, স্পোর্টশ সু পরিহিতা তরুণীদের পাশে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় সেরার শিরোপা ছিনিয়ে শোরগোল ফেলে দিলেন মহারাষ্ট্রের বিড জেলার ৪৭ বছরের স্বামীহারা রামাবাই।

ভারতীয় শিক্ষণ প্রসারক সংস্থা খোলেশ্বর প্রতিষ্ঠানের ৭৫ বছরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আম্বাজোগাই শহরে অমৃত মহোৎসব উদযাপন করা হয়। উদযাপনের অংশ হিসাবে ছিল শহরের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চক থেকে ভাগ্যনগর চক পর্যন্ত মহিলাদের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। চ্যাম্পিয়নের প্রথম পুরস্কার ৩০০০ টাকা। প্রতিযোগিতায় নাম দেন আম্বাজোগাইয়ের বাসিন্দা দুই মেয়ের মা স্বামীহারা ৪৭ বছরের রামাবাই। স্বামীর মৃত্যুর পর রান্নার কাজ করেন তিনি। পরিবারে তিনিই একমাত্র রোজগেরে। যেখানে ব্র্যান্ডেড স্পোর্টস শু, টি শার্টের পাশাপাশি দৌড়ের আগে বিভিন্ন এনার্জি ড্রিঙ্কসের ছড়াছড়ি প্রতিযোগীদের মধ্যে সেখানে রামাবাইয়ের দৌড়ের উপযুক্ত জুতো দূরে থাক, ছিল না ট্র্যাক প্যান্ট, টি শার্ট। পরনে আটপৌরে শাড়ি আর পায়ে সাধারণ চটি দেখে হাসির রোল পড়ে যায় প্রতিযোগীদের মধ্যে। সঙ্গে যোগ দেন আয়োজকরাও। জেদ চেপে যায় রামাবাইয়ের। শাড়ি কোমরে গুঁজে, চটি হাতে দৌড় শুরু করেন তিনি। একমাত্র লক্ষ্য ফিনিশিং লাইন ছোঁয়া। রাস্তার খোয়া পাথর, গরম পিচ, লোকজনের অবাক চোখের দৃষ্টি কিছুই বাধা হতে পারেনি রামাবাইয়ের কাছে। উল্টে প্রতিযোগীদের ঠাট্টা, বিদ্রুপ জেদ আরও বাড়িয়ে দেয় তাঁর। সকলকে হতবাক করে দিয়ে ফিনিশিং লাইন ছুঁয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে ট্রফি, মানপত্র পাওয়ার সঙ্গে নগদ ৩০০০ টাকা জিতে নেন রামাবাই। তাঁর জয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এলাকা জুড়ে। পুরস্কারের টাকা মেয়েদের পড়াশোনায় খরচ করতে পারবেন ভেবেই খুশি রামাবাই। দরিদ্রদের সবসময় লড়াই করেই সবকিছু পেতে হয় বলে পুরস্কার হাতে নিয়ে বলেন রামাবাই। তাঁর এই অদম্য জেদ, প্রবল আত্মবিশ্বাসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলে।

 

রামাবাই হয়তো জীবনযুদ্ধের অনেক লড়াইয়ে হেরে গেলেও এই লড়াইয়ে হারেননি। রামাবাইরা হারেন না। দারিদ্র্যের কশাঘাত তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত জন্ম দেয় তীব্র লড়াকু মানসিকতার। অদম্য জেদের। কে না জানে যে হারতে জানে সে লড়তে জানে। আর যে লড়তে জানে সে জিততেও জানে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *