*পাতে পড়ছে ছাতাধরা পচা মাংস, বিরিয়ানিতে দেওয়ালের রং: লাইসেন্স বাতিল শিমলা বিরিয়ানি থেকে নিজাম – করিমস্ এর
নবনীতা পাল : রঙ নিউজ
লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়া ৪০টি দোকানের তালিকায় শিমলা বিরিয়ানি ছাড়াও রয়েছে কলকাতা পুরসভার পাশের শতাব্দীপ্রাচীন ‘নিজামস’, রিপন স্ট্রিটের ‘করিমস’, নাগেরবাজার ও যশোর রোডের ‘আরসালান’, মধ্যমগ্রামের ‘রং দে বাসন্তী ধাবা’, সল্টলেক ও সোদপুরের ‘বারবিকিউ নেশন / অ্যাবসোলিউট বারবিকিউ’, পানিহাটির ‘চাকনাওয়ালা’ এবং সল্টলেকের ‘চৌরাসিয়া চাট’-এর মতো একাধিক নামকরা প্রতিষ্ঠান। ভোজনরসিক বাঙালির পাতে পছন্দের খাবারের নামে কী পরিবেশন করা হচ্ছে, তা নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। কলকাতা জুড়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে বেরিয়ে এসেছে একাধিক নামী রেস্তোরাঁর চরম অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক ছবি। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিপণির লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতর। এই তালিকায় রয়েছে ইএম বাইপাসের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘শিমলা বিরিয়ানি’র নামও।

স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি চিরতরে ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেল শহরের এই প্রিয় বিরিয়ানির ঠিকানাটির? পুজোর ঠিক আগেই বন্ধ হয়ে গেলে গোটা পুজো জুড়ে কী হবে বিরিয়ানিপ্রেমীদের? উত্সবের আবহে এত কোটি কোটি টাকার ব্যসসা কি জলে গেল? এই মুহূর্তে উঠছে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো। এ কি শুধুই মানুষের মনে ভয় দেখানোর জন্য না কি বছরের পর বছর ধরে সত্যিই রেস্তোরাগুলো মানুষকে বিষাক্ত জিনিস খাইয়ে চলছে? কলকাতায় বাগেশ্বর বাবার নিরামিষ বার্তার আবহেই রেস্তোরাগুলোর আমিষ খাবারে পচা নমুনা খাদ্যরসিকদের মন ভেঙেছে।
গত এক সপ্তাহে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভার যৌথ দল শহরের প্রায় ১৭০টি রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং শপিং মলের ফুড কোর্টে আকস্মিক তল্লাশি চালায়। অভিযানে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মত।
একাধিক দোকানের মতো শিমলা বিরিয়ানি, করিম’স ও নিজামসের মতো জায়গাতেও বিরিয়ানির মশলায় ক্ষতিকর ‘কালারিং এজেন্ট’ মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। আধিকারিকদের মতে, খাবারের রঙ আকর্ষণীয় করতে দেওয়াল রং করার কৃত্রিম কেমিক্যাল ও কার্সিনোজেনিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছিল, যা ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়।
ফ্রিজে রাখা মাংস ও পনিরে ছত্রাক বাসা বেঁধেছে। বহু পুরনো বাসি খাবার মজুত করে রাখা ছিল।
রান্নাঘর এবং স্টোররুমে আরশোলা, ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উপদ্রব পাওয়া গিয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী রান্নার তেল তিনবারের বেশি ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও, দিনের পর দিন একই পোড়া তেল ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
অভিযানের পর নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রায় ১৩০০ কেজি খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
খাদ্য রসিকদের সবথেকে বড় প্রশ্ন– তবে কি শিমলা বিরিয়ানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল? পুরসভা সূত্রে খবর, এখনই চিরতরে বন্ধ হচ্ছে না এই রেস্তোরাঁগুলি। এই লাইসেন্স সাসপেনশন মূলত সাময়িক। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, গুরুতর ত্রুটি মেলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁগুলির কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মানা, বাসি খাবার বর্জন করা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।শিমলা বিরিয়ানি-সহ বাকি রেস্তোরাঁগুলিকে পুরসভার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে রান্নাঘরের পরিবেশ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর করতে হবে।
এরপর খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা পুনরায় পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হলে তবেই এদের লাইসেন্স পুনর্বহাল করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধন না আনলে লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল ও আইনি পদক্ষেপের পথও খোলা রাখছে প্রশাসন।
