বিলুপ্তপ্রায় পিগমি হগের দেখা মিলল মানসে
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
বিলুপ্তপ্রায় পিগমি হগের দেখা মিলল অসমের মানস জাতীয় উদ্যানে। বর্তমানে মানসে পিগমি হগ বা ক্ষুদ্র বন্য শূকরের মোট সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৪তে যা রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন প্রাণিবিজ্ঞানীরা। সূত্রের খবর, ১৯৯৬ সালে মানসের কুরিবিল তৃণভূমিতে মাত্র ৬টি পিগমি হগকে নিয়ে সংরক্ষণ ও প্রজনন কর্মসূচি নেওয়ার পর ২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দফায় দফায় ৭৮টি প্রাণীকে ছাড়ায় বর্তমানে পিগমি হগের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৪।

প্রাণিজগতের বিরলতম স্তন্যপায়ীদের অন্যতম পিগমি হগ বা ক্ষুদ্র বন্য শূকরের বৈজ্ঞানিক নাম Porcula salvania (পরকিউলা সালভানিয়া)। হিমালয়ের পাদদেশের স্যাঁতসেঁতে ঘাসজমিতে ছিল এদের অবাধ বিচরণ। ঘাসের আড়ালে খাবারের খোঁজ, বাসস্থান তৈরি ও শিশুদের বড়ো করে তুলত পিগমি হগের দল। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে একসময় দেখা মিলত তাদের। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এরা বাসস্থান হারাতে হারাতে ক্রমশ বিলুপ্ত হতে থাকে। বস্তুত পিগমি হগকেই ভারতের স্থানীয় শূকর হিসাবে দেখা হতো। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এদের সংরক্ষণ ও প্রজনন কর্মসূচির আওতায় আনে ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া। কাজ শুরু হয় মানস থেকে। পিগমি হগের সংখ্যা বাড়াতে দেশের অন্যান্য বনাঞ্চলের পরিবেশ খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে। এ বিষয়ে আপাতত উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের কথা ভেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, পিগমি হগের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তৃণভূমির বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী পাঁচ বছরে মানসে আরও ৮০টি পিগমি হগ ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে জোরকদমে কাজে নেমেছে ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া।

