১১ বছরের আইনি লড়াই শেষে ময়নার বিষমদ কাণ্ডে দোষীদের সাজা
পাঁচ অভিযুক্তের যাবজ্জীবন, তিনজনের ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড; তমলুক আদালতের রায়
দিব্যেন্দু দাস, এডিটর, রঙ নিউজ
তমলুক, ৩০ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘ প্রায় ১১ বছরের আইনি প্রক্রিয়ার পর ময়নার বিষমদ কাণ্ডের মামলায় দোষীদের সাজা ঘোষণা করল তমলুক আদালত। ২০১৫ সালের মর্মান্তিক ওই ঘটনায় বিষমদ পান করে মোট ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ময়না এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ময়না থানায় মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে পালন করেন তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর আশিস কুমার বেরা (অবসরপ্রাপ্ত)। পরবর্তীতে তদন্তভার গ্রহণ করেন সাব-ইন্সপেক্টর মিহির কুমার সাহু।
তদন্ত চলাকালীন সংগৃহীত তথ্য, সাক্ষ্য ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পেশ করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি Additional District & Sessions Judge, 3rd Court, Tamluk, Purba Medinipur-এর আদালতে বিচারাধীন হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর তরুণ অধিকারী।
অবশেষে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আদালত দোষীদের সাজা ঘোষণা করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকি তিনজন অভিযুক্তকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার রায়ে আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তদন্ত থেকে শুরু করে আদালতে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পুলিশ প্রশাসন সর্বদা বদ্ধপরিকর।
