ছবিতে শ্রীরামকৃষ্ণদেব 

ছবিতে শ্রীরামকৃষ্ণদেব

 

✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

“কালে এ ছবি ঘরে ঘরে পুজো হবে!” বলেছিলেন তিনি। ঠিকই তো। বাস্তবিক তাই তো হয়েছে। পরমপুরুষ যুগাবতারের ছবি ঘরে ঘরে পুজো হয়ে চলেছে আজও। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত তাঁর কোনোও ছবি ছিল না! অথচ ১৮৩৯ সালে কাঁচের স্লাইডের ওপর ফটো তোলার স্টিল ক্যামেরা এসে গিয়েছে। ভারতে তা দিয়ে ছবিও উঠছে। খুঁজে দেখা তাঁর সেই ছবির ইতিহাস।

সারা জীবনে প্রায় চারটি ছবি তোলা হয় ১৮৩৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের শুক্লা দ্বিতীয়ায় হুগলি কামারপুকুরে পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও মা চন্দ্রমণি দেবীর কোল আলো করে আসা গদাধরের। পরে যিনি রাণী রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরে তাঁর সাধনায় জাতিধর্ম নির্বিশেষে কাছে টেনে নেবেন আপামর জনসাধারণকে, মুছে দেবেন সকল মালিণ্য, হয়ে উঠবেন সকলের প্রাণের ঠাকুর সেই রামকৃষ্ণদেবের প্রথম ছবি ওঠে ১৮৭৯ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মসমাজের নেতা কেশবচন্দ্র সেনের বাড়িতে। ভাগ্নে হৃদয়কে নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন ঠাকুর। সেখানে ভাবসমাধি ঘটল তাঁর। বামহাত বুকের কাছে, ডানহাত মৃগ মুদ্রায় ঊর্ধে। এটি অন্যতম জনপ্রিয় ছবি রামকৃষ্ণদেবের।

কেমন করে কলে ছবি ওঠে তা নিয়ে অসীম আগ্রহ ঠাকুরের। ১৮৮১ সালের ১০ই ডিসেম্বর। ভক্ত সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের সঙ্গে চললেন রাধাবাজারের বেঙ্গল ফটোগ্রাফারর্স স্টুডিওতে। সেখানে কোট গায়ে তাঁর টেবিলে রাখা ডানহাত অবস্থায় সমাধিস্থ ছবিটি তোলেন ফটোগ্রাফার নীলমাধব দে। এটিও অন্যতম জনপ্রিয় ছবি। পরবর্তীতে ১৮৮৩ দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রনাথের বন্ধু ভবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের তোলা ছবিটি দেখে তা মহাযোগের লক্ষণ বলেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব। বলেছিলেন কালে ঘরে ঘরে পুজো হবে এই ছবি। চতুর্থ ছবিটি ঠাকুরের পছন্দ না হওয়ায় তা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

 

ভক্তের ভগবান ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব। সহজ ভাষায় কত কঠিন ও গূঢ় তত্ত্ব সহজ করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ক্যামেরায় ছবি তোলা নিয়েও তাঁর কথা সেই ইঙ্গিত করে। “শুধু কাঁচের ওপর ছবি থাকে না, একটু কালি মাখিয়ে নিতে হয়। তেমনই শূন্য মনে ঈশ্বরের কথা ছাপ না ফেলে উড়ে যায়! মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ ও ব্যাকুলতা মাখানো থাকলে তা মনের ওপর ঠিক ঠিক ছাপ ফেলে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *