ভারতে বড় চাপে মেটা! মেটার প্রধান মার্ক জুকারবার্গ ভারত সরকারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা

ভারতে বড় চাপে মেটা! মেটার প্রধান মার্ক জুকারবার্গ ভারত সরকারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে Facebook, Instagram ও WhatsApp-এর মূল সংস্থা

দেবপ্রিয়া বারিক : সিনিয়র রিপোর্টার : রঙ নিউজ

 

নয়াদিল্লি: ৭আগস্ট : শিশু নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে তীব্র চাপে মেটা! অ্যালগরিদম কি শুধু কনটেন্ট দেখায়, নাকি অবৈধ বিষয়ও ছড়িয়ে দেয়? তদন্তে নেমেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, আইটি সচিব এস. কৃষ্ণন এবং অন্যান্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মেটার প্রধান মার্ক জুকারবার্গ ভারত সরকারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। ক্ষমাপ্রার্থনার কারণ গুলি হল:

১)শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM),

২)ডিপফেক-সম্পর্কিত সমস্যা,

এবং ৩)মেটার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার কিছু ত্রুটি।

শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত (CSAM) কনটেন্ট, ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির অভিযোগে বড় বিতর্কের মুখে পড়েছে মেটা। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলিতে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

কী নিয়ে বিতর্ক?

 

আন্তর্জাতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার কিছু বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এমন কনটেন্ট অনুমোদন করেছিল, যা শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অবৈধ উপাদানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এছাড়া AI-ভিত্তিক কিছু আপত্তিকর অ্যাপের বিজ্ঞাপনও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও মেটা জানিয়েছে, শিশুদের যৌন শোষণ-সংক্রান্ত যে কোনও কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাদের ‘Zero Tolerance’ নীতি রয়েছে এবং এমন কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য তারা নিয়মিত ব্যবস্থা নেয়।

 

কেন বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ?

 

ভারতের NCPCR ও NHRC ইতিমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। সরকারের বক্তব্য, যদি কোনও সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদম নিজেই অবৈধ কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, তাহলে সেই সংস্থা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে ‘Safe Harbour’ বা বিশেষ আইনি সুরক্ষার সুবিধা হারাতে পারে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন শুধু অবৈধ পোস্ট সরিয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এমন কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে কি না। তাই ভবিষ্যতে AI-নির্ভর সুপারিশ ব্যবস্থা, বিজ্ঞাপন নীতি এবং অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতার ওপর আরও কঠোর নিয়ম আসতে পারে।

 

এর প্রভাব কী হতে পারে?

 

তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে, ভারতে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থাগুলোর আইনি দায়বদ্ধতা কতটা বাড়বে এবং শিশু-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কী ধরনের নিয়ম কার্যকর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *