মোহবনীতে ক্ষুদিরাম-স্মৃতি প্রকল্প

মোহবনীতে ক্ষুদিরাম-স্মৃতি প্রকল্প

 

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কো-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

 

 

 

কেশপুরের মোহবনীতে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে ঘিরে শুরু হতে চলেছে বড়সড় উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। বিপ্লবীর জরাজীর্ণ পৈতৃক বাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি সেখানে তৈরি হবে সংগ্রহশালা, গ্যালারি, লেজার-লাইট শো এবং গবেষক ও পর্যটকদের জন্য অতিথিনিবাস। মঙ্গলবার কেশপুরের জনসভা থেকে এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাথমিক পর্যায়ে মোহবনী উন্নয়ন পর্ষদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহের পরামর্শ ও নির্দেশ। তিনি জানান, কেশপুর সফরের কয়েক দিন আগে সকালে অমিত শাহ তাঁকে ফোন করেছিলেন। ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটেবাড়ির বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অমিত শাহ জানতে চেয়েছিলেন, এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না।শুভেন্দু বলেন, তিনি তাঁকে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু অমিত শাহ তাঁকে স্পষ্ট ভাবে বলেন, ‘‘না, এটা তোমাকে করতেই হবে।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই পরামর্শ তাঁকে ক্ষুদিরামের স্মৃতিবিজড়িত মোহবনীর উন্নয়নে আরও উদ্যোগী করেছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। এ জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদও জানান তিনি।মোহবনীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনায় পৈতৃক ভিটের মূল কাঠামো ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারের পাশাপাশি ক্ষুদিরামের জীবন, বিপ্লবী কর্মকাণ্ড এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর আত্মত্যাগকে তুলে ধরার জন্য আধুনিক সংগ্রহশালা ও গ্যালারি তৈরির কথা রয়েছে। থাকবে বিপ্লবীর জীবন ও বীরত্বগাথা তুলে ধরার লেজার-লাইট শো-ও।

 

শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, মোহবনীকে ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্র হিসাবেও গড়ে তুলতে চায় প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গবেষক ও পড়ুয়াদের থাকার জন্য একটি সুসজ্জিত অতিথিনিবাস তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোহবনী উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসকের কাছ থেকে তিনি প্রকল্পের খসড়া পরিকল্পনা পেয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ের কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা মোহবনী ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রকল্পের ব্যাপ্তি বড় হলেও অর্থের অভাব হবে না।

 

বর্ষা শেষ হওয়ার পর আগামী অক্টোবর থেকে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসকের উপর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়ে তাঁর আশা, আগামী বছর ফের মোহবনীতে এসে তিনি প্রকল্পের কাজের বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারবেন।

 

জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‘আমাদের একটু সময় লাগবে, তবে সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন হবে।’’ তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থারও পরিবর্তন— যার সুফল সাধারণ মানুষ নিজের চোখে দেখতে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *