পূর্ব মেদিনীপুরে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ব্যাপক ক্ষতির মুখে কৃষি
দিব্যেন্দু দাস, রঙ নিউজ
পূর্ব মেদিনীপুর | ১৯ আগস্ট ২০২৬
অতিবৃষ্টি ও প্লাবনের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। একাধিক নিচু এলাকা ও কৃষিজমিতে জল জমে থাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জেলার কৃষি ও মৎস্যনির্ভর অর্থনীতিতে।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্লাবনের জেরে ধানের জমির পাশাপাশি পানবরজ, ফুল ও সবজির খেত এবং মাছের ভেড়িতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু কৃষকের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম জলের তলায় চলে যাওয়ায় তাঁদের সামনে তৈরি হয়েছে বড় আর্থিক অনিশ্চয়তা।
জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলমগ্নতার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার উপর জল উঠে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতিবৃষ্টি ও প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের কথা জানিয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসেও আগামী সময়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন করে জলস্তর বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য জলমগ্ন এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা। পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে বন্যার জল যত দ্রুত নামবে, তত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে জনজীবন—তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই যে দীর্ঘ হতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
