বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ স্বামীর বশ্যতা নয় 

বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ স্বামীর বশ্যতা নয়

দীপা দে : রঙ নিউজ

বড়ো নির্দেশ কর্ণাটক হাইকোর্টের। মেয়েদের বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রয়োজন নেই স্বামীর অনুমতির। বৈবাহিক সম্পর্কের অর্থ স্ত্রীর স্বাধীনতা হরণ বা স্বামীর বশ্যতা নয়। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল কর্ণাটক হাইকোর্ট।

কর্ণাটকের তুমাকুরুর এক পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কর্ণাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক ব্যক্তি। পারিবারিক আদালতের পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল স্ত্রী ও কন্যার ভরণপোষণের জন্য তাকে মাসে ৯ হাজার টাকা করে দিতে হবে। তুমাকুরুর এই পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টে নিজের আবেদনে ঐ ব্যক্তি জানান তার স্ত্রী শ্বশুর শাশুড়ির সেবা ও বাড়ির কাজ করতেন না। অনুমতি ছাড়াই নিজের ইচ্ছে মতো বাপের বাড়ি যেতেন ফলে ভরণপোষণের অর্থের পরিমাণ কমানোর আর্জি জানিয়েছেন। তবে এই আবেদন গ্ৰাহ্য হয়নি কর্ণাটক হাইকোর্টেরও। সুতরাং স্ত্রী ও কন্যার ভরণপোষণ বাবদ পূর্ব নির্ধারিত ৯ হাজার টাকা কর্ণাটক হাইকোর্ট বহাল রেখেছে।

হাইকোর্ট সাফ জানিয়েছে, পিতামাতার দায়িত্ব বর্তায় পুত্র-কন্যার উপর, জামাতা ও পুত্রবধূর উপর নয়।বিবাহ মানে স্ত্রীর স্বাধীনতাকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার নয়।পরিবারের প্রতি স্ত্রীর নিষ্ঠার মাপকাঠি তার আনুগত্য বা বশ্যতা নয়। শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার জন্য তার স্বাধীনতা হরণ বা সীমিত করার চেষ্টা একজন নারীর অধিকারের পরিপন্থী।

একজন স্ত্রীর অধিকার আছে যখন খুশি বাপের বাড়ি যাওয়ার। বাড়ির কাজ ও শ্বশুর শাশুড়ির দেখভালের জন্য স্ত্রীকে বাধ্য না করে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *