অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গার পুজো সুভাষগ্রামে
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গার পুজো হয়ে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামে। জানা গিয়েছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে পারিবারিক রীতি মেনেই দীর্ঘ বছর ধরে বৈচিত্র্যপূর্ণ এই অভিনব অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গার পুজো হয়ে আসছে সুভাষগ্রামের ঘোষ পরিবারে। একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের সঙ্গে কালীর হাতে শোভা পাচ্ছে ত্রিশূল। অন্যদিকে দুর্গার এক পা মহিষাসুরের বুকে। আবার কালীর পা সিংহের পিঠে। ঘোষ পরিবারের এই প্রাচীন ও অভিনব পুজো দেখতে প্রতি বছর লোক সমাগম হয় প্রচুর।
বাঙালির সম্বৎসরের সবথেকে বড়ো উৎসব দুর্গাপুজো। বাংলার দুর্গোৎসবের ইতিহাস বহু প্রাচীন। বহু পরিবারে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু একই প্রতিমায় কালী ও দুর্গা আক্ষরিক অর্থেই ব্যতিক্রম। ঘোষ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের আদি নিবাস পূর্ববঙ্গের ঢাকা বিক্রমপুর পরগনার মেদিনীমন্ডলে। দেশভাগের পর এপার বাংলায় চলে আসেন তাঁরা। সঙ্গে আনেন বাস্তুর মাটি। ১৮৬৪ সালে পরিবারের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেন। কিন্তু স্বপ্নাদিষ্ট অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গার প্রতিমা না তৈরি করে চিরাচরিত দুর্গা প্রতিমা তৈরি করানো হলে আচমকাই তার একদিক কালো হয়ে যায়। তখন কুলপুরোহিতের নির্দেশে অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গার পুজো শুরু হয়। পুরনো ছবি দেখে স্পষ্টতই বোঝা যায় একচালা প্রতিমার অর্ধেক ঘোর কালো ও বাকি অর্ধেক উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের। শাস্ত্র অনুযায়ী কালী ঘোর কৃষ্ণবর্ণা। অপরদিকে দুর্গা তপ্তকাঞ্চনবর্ণা। তাই অর্ধ কালী অর্ধ দুর্গা প্রতিমার মাঝ বরাবর একটি সূক্ষ্ম বিভাজন রেখা থাকে।
ঘোষ পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট তিথি মেনে বৃহন্নন্দিকেশ্বর পুরাণ অনুযায়ী পুজো হয়। সপ্তমীতে চক্ষুদান, প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর দর্পণ প্রতিবিম্বে ১০৮ ধরনের জলে হয় মায়ের মহাস্নান। এছাড়া আখ, চালকুমড়ো বলির পাশাপাশি নবমীতে চালের পিটুলি দিয়ে মানুষের অবয়ব তৈরি করে হয় শত্রুবলি। অন্নভোগ না হলেও দেওয়া হয় সাড়ে ১২ কিলো চালের নৈবেদ্য। দশমীতে বোরো ধানের চাল, কচুর লতি, শাপলা, আমড়ার টক নিবেদন করা হয় মাকে। বিসর্জনের পর বসতবাড়ি সংলগ্ন পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।
