আসামে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫০০ ঘর গড়ার উদ্যোগ সলমানের
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার ধাক্কায় কার্যত বিপর্যস্ত আসাম। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। বহু পরিবার এখনও আশ্রয় নিয়েছে ত্রাণশিবির কিংবা রেল স্টেশনে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের একাধিক তারকা। রণদীপ হুডা ও দেবলীনা ভট্টাচার্যের পর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করলেন সলমান খান। তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’ এবার বন্যায় গৃহহীন পরিবারগুলির জন্য ৫০০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু হয়েছিল বন্যার প্রথম থেকেই। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতেই পুনর্বাসনের দিকে নজর দেয় ‘বিয়িং হিউম্যান’। জানা গিয়েছে, দুর্গত এলাকায় রণদীপ হুডার ত্রাণকার্যের কথা জানতে পেরে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন সলমান। আলোচনার পর দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় হাত মেলায় দু’পক্ষ।
রণদীপ সলমানকে জানান, ‘গ্লোবাল শিখস’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রায় ৭০ জন সদস্য দিনরাত দুর্গত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং বাঁশ ও টিন দিয়ে বন্যা-প্রতিরোধী আধা-পাকা ঘর তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। সেই পরিকল্পনার সঙ্গেই যুক্ত হয় সলমান খানের ‘বিয়িং হিউম্যান’। যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলার নেপালি খুঁটি গ্রামে ইতিমধ্যেই ২২০টি ঘর তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি করে ঘর নির্মাণ চলছে। লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব বন্যায় সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলির মাথার উপর নিরাপদ ছাদ ফিরিয়ে দেওয়া।
অমরপ্রীত সিং জানিয়েছেন, সলমান খান তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আপনারা চিন্তা করবেন না।” অন্য দিকে, শিবসাগর রেল স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের জন্য এখনও নিয়মিত রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন রণদীপ হুডা। তাঁর কথায়, “সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। এই বিপদের সময়ে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কর্তব্য। যার যতটা সামর্থ্য, সে ততটাই এগিয়ে আসুক।”
