উনিশ বছর পর কলকাতায় “ফেরা” তসলিমা নাসরিনের
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় ( কালচারাল কোঅর্ডিনেটার)
রঙ নিউজ
প্রায় দুই দশক পর কলকাতায় “ফেরা” বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে বাম আমলে তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাস নিয়ে তুমুল বিতর্কের জেরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল আমলেও তসলিমা শহরে ফিরতে পারেননি। নতুন বিজেপি সরকার আসার পর তসলিমাকে ফেরানো হল শহরে। শনিবার রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন রবীন্দ্র সদন চত্বরে।

শনিবার পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রবীন্দ্রসদনে তসলিমা নাসরিনের ‘ফেরা’ অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনার পর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর তসলিমা নাসরিনকে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে বলেন তসলিমা নাসরিনের কলকাতা আসার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হল নতুন সরকারের আমলে সকলের গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি কবি সুলেখিকা তাসলিমা নাসরিনকে সম্বর্ধনা জানিয়ে স্বাধীনতার স্বার্থ শতবর্ষে তার হাতে তুলে দেন ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিচ্ছবি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন তাঁর কলকাতায় ফেরাকে জীবনের ফেলে আসা একটি অংশের কাছে ফিরে আসা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। একইসঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ভবিষ্যতে কোনও লেখককে যেন নির্বাসনে যেতে না হয়, সেই আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে ওঠার পর তসলিমা নাসরিন দর্শকাসনে বসে থাকা কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ পেয়ে জয় গোস্বামী আসন থেকে উঠে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যেতেই দর্শকদের একাংশ প্রতিবাদ শুরু করেন।
তবে অতীতে তসলিমা নাসরিনের দীর্ঘ নির্বাসন নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন জয় গোস্বামী নিজেই। ২০০৭ সালে তসলিমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার সময় তাঁর পাশে আরও সক্রিয়ভাবে দাঁড়াতে না পারায় নিজেকে ‘দোষী’ মনে করেন বলেও জানিয়েছিলেন কবি। তসলিমার নির্বাসনের ঘটনায় কিছু করতে না পারার জন্য অতীতে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশও করেছিলেন তিনি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় কয়েক মুহূর্ত মাইক্রোফোনের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তসলিমা নাসরিন। হলজুড়ে বিক্ষোভের আওয়াজ শোনা যেতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আয়োজকেরা বারবার দর্শকদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেন। কয়েক মিনিট পর তসলিমা নিজেই দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কি কথা বলব? তাহলে দয়া করে শান্ত হন এবং নিজেদের আসনে বসুন।” এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং তিনি বক্তব্য শুরু করেন।
১৯ বছর পর তাসলিমা নাসরিনের আগমনে কলকাতা মহানগরীর গতকালের সন্ধ্যা ভেসেছিল কবিতার আবেশে।

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
