কাশ্মীরে ফের জঙ্গি হামলা: গুলিতে নিহত ২ পরিযায়ী শ্রমিক, উপত্যকাজুড়ে হাই অ্যালার্ট

কাশ্মীরে ফের জঙ্গি হামলা: গুলিতে নিহত ২ পরিযায়ী শ্রমিক, উপত্যকাজুড়ে হাই অ্যালার্ট

দেবপ্রিয়া বারিক , রঙ নিউজ

 

শ্রীনগর, ৩ আগস্ট: দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার হাবলিশি গ্রামে জঙ্গিদের লক্ষ্যভেদী হামলায় দুই পরিযায়ী শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ফের অশান্তির ছায়া নেমেছে উপত্যকায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ইটভাটার কাছে এই হামলার পর মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী। শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামে প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে।

নিহত দুই শ্রমিক উত্তর ভারতের বাসিন্দা এবং কুলগামের একটি ইটভাটায় কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, এক ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পর আচমকাই গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনার পরই লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, তাঁদের তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিবন্ধন, বিমার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও তীব্র করার নির্দেশ দেন।

অমরনাথ যাত্রা চলাকালীন এই হামলা নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি, যানবাহন পরীক্ষা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক নির্মাণ, কৃষি, ইটভাটা ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পে কাজ করতে আসেন।

সাম্প্রতিক হামলার জেরে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও জীবিকার তাগিদে অধিকাংশ শ্রমিক এখনও উপত্যকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁদের আশা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী

এডিটর – দিব্যেন্দু দাস

এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *