খোলা ক্যানভাস শিল্প গ্রাম রঘুরাজপুর

খোলা ক্যানভাস শিল্প গ্রাম রঘুরাজপুর

 

✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

একটা গোটা গ্রাম পুরোটাই ছবি! বলা ভালো একটা গোটা গ্রামের সব বাড়ির দেওয়াল, উঠোন, দাওয়া, সিঁড়ি উজ্জ্বল রং ও নিখুঁত তুলির টানে অসামান্য সৃষ্টির স্বাক্ষর রেখেছে যা থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এই ছবির মতো সুন্দর গ্রামের পরতে পরতে শিল্পীর সূক্ষ্ম তুলির টান ও নান্দনিকতার মিশেলে আক্ষরিক অর্থেই শিল্প ও শিল্পীর খোলা ক্যানভাস ওড়িশার বিখ্যাত পটচিত্রের শিল্প গ্রাম রঘুরাজপুর।

ওড়িশার জগন্নাথ ক্ষেত্র পুরী থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ভার্গবী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত ভান্ডার রঘুরাজপুর। বস্তুত রঘুরাজপুর শিল্পের নিবাস, শিল্পীর আবাস যা কিনা ২০০০ সালে ‘হেরিটেজ আর্ট ভিলেজ’ বা ঐতিহ্যবাহী শিল্প গ্রামের শিরোপা পেয়েছে। গ্রামের সারিবদ্ধ ১২০টি বাড়ির প্রতিটিই রং তুলিতে সেজে রয়েছে। প্রতিটি বাড়ির কানহা রাও, বালকৃষ্ণ সেনাপতি, সুশান্ত মহাপাত্রের মতো বাসিন্দাদের একটাই পরিচয় যে তাঁরা শিল্পী। গোটা পরিবারের সদস্যরা সকলেই কিছু না কিছু শিল্পকর্মে যুক্ত। কাপড়ে আঁকা পটচিত্রের পাশাপাশি শুকনো তালপাতায় খোদাই করা পটচিত্র আঁকেন রঘুরাজপুরের শিল্পীরা। এছাড়াও কাগজের মন্ড থেকে তৈরি মুখোশ, নারকেল ও সুপারির ওপর আঁকা আলপনা, কাঠ ও পাথরের খেলনা এমনকি নারকেল দড়ি দিয়ে তৈরি ঘর সাজানোর সামগ্রীও তৈরি করেন শিল্পীরা। সাদা রংয়ের জন্য শাঁখের গুঁড়ো, কালো রংয়ের জন্য কাজল, ভুসো কালি, রঙিন পাথরের গুঁড়ো থেকে অন্যান্য রংয়ের মতো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে, তেঁতুল বীজের রস ও বেলের আঠা মিশিয়ে দুটি কাপড় জুড়ে তাতে চকের গুঁড়ো ছড়িয়ে হাতে তৈরি ক্যানভাসে দক্ষ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন রামায়ণ, মহাভারতের কাহিনীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা, জগন্নাথদেবের লীলা কথার পাশাপাশি অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী। প্রতিটি বাড়ি থেকেই কেনা যায় পটচিত্র। কেনা যায় অন্যান্য শিল্পকর্ম। ফলে পর্যটকদের কাছে রীতিমতো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে শিল্প গ্রাম রঘুরাজপুর। মানুষ আসেন, দেখেন তারপর স্মৃতি হিসাবে কিনে নিয়ে যান অসামান্য সব শিল্পকর্ম।

উৎকৃষ্ট কলা থেকে উৎকল রাজ্য যা বর্তমানে ওড়িশা। সেই উৎকৃষ্ট কলার ধারক ও বাহক হিসাবে এগিয়ে চলেছে শিল্প গ্রাম রঘুরাজপুর যা কিনা এক খোলা শিল্প কর্মশালা। এক খোলা ক্যানভাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *