স্বাধীনতার প্রাক্কালে ইস্টবেঙ্গলের হাতে তেরঙ্গা

স্বাধীনতার প্রাক্কালে ইস্টবেঙ্গলের হাতে তেরঙ্গা

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল ক-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

 

কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ইস্টবেঙ্গল। ঘরের মাঠে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার লাল-হলুদ সমর্থকের সামনে পিছিয়ে পড়েও কুয়েতের আল-আরাবিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূলপর্বে জায়গা করে নিল কলকাতার ক্লাব। এই প্রথম এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেল ইস্টবেঙ্গল।

 

কুয়েত লিগের রানার্স-আপ আল-আরাবির বিরুদ্ধে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার উপর ইস্টবেঙ্গলের সব বিদেশি ফুটবলারকে না পাওয়া ম্যাচের আগে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছে। বিপরীতে আল-আরাবি পাঁচ বিদেশিকে প্রথম একাদশে রেখে শুরু করে—কেনিয়ান মালেকো, লিওনার্দো মার্টিন্স, শেলডন, আনায়ো ইউয়ালা, জোহের রশুল (খাদিম) এবং জ়াইদ কুনবারদের নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তারা।

 

প্রথমার্ধে গোলের দেখা না মিললেও দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ জমে ওঠে। আল-আরাবির হয়ে স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইওয়ালা। এক গোলে পিছিয়ে পড়ে চাপ বাড়লেও হাল ছাড়েনি ইস্টবেঙ্গল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের একেবারে শেষ লগ্নে জয় গুপ্তার হেডার থেকে সমতা ফেরায় লাল-হলুদ। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

 

আর সেখানেই বদলে যায় পুরো ছবিটা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আঘাতে আল-আরাবিকে ছিটকে দেয় ইস্টবেঙ্গল। জয় গুপ্তার পর রশিদ, ডেভিড এবং দানুর গোলে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লাল-হলুদ ব্রিগেড।

 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স যে বরাবরই আলাদা মাত্রা পায়, এদিন যেন তারই আরও একবার প্রমাণ মিলল। প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার সমর্থকের গর্জনের মধ্যে পিছিয়ে থেকেও চার গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়ে শুধু একটি ম্যাচই জিতল না ইস্টবেঙ্গল—ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে তৈরি করল নতুন ইতিহাস।

 

ইস্টবেঙ্গল ৪ — জয় গুপ্তা, রশিদ, ডেভিড, দানু

আল-আরাবি ১ — ইওয়ালা

 

এই জয়ের হাত ধরেই প্রথমবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূলপর্বে ভারতের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেল ইস্টবেঙ্গল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *