না ফেরার দেশে নানা

না ফেরার দেশে নানা

 

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

যবনিকা পড়ল জীবনের রঙ্গমঞ্চে। বন্ধ হলো প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় তাঁর বাসভবনে প্রয়াত হন নানা। সূত্রের খবর, চটজলদি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫।

 

১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদে অতি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বনাথ নানা পাটেকর। দীর্ঘ পাঁচ দশকের হিন্দি ও মারাঠী ছবিতে তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন পদ্মশ্রী সহ একাধিক জাতীয় পুরস্কার। তবে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয় হওয়ার পথ আদৌ মসৃণ ছিল না। থিয়েটারের প্রতি আগ্রহ তাঁকে অভিনয় জগতে নিয়ে আসার আগে গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন নানা। বস্তুত শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের তীব্র কশাঘাত তাঁর জীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণা। পরিবারের আর্থিক অনটন মাত্র ১৩ বছর বয়সে মেটাতে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ হেঁটে মুম্বইয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন নানা। করেছেন মুম্বইয়ের ব্যস্ত রাজপথে জেব্রা ক্রশিং আঁকার কাজ। ১৯৭৮ সালে হিন্দি ছবি গমনের মাধ্যমে রুপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ নানার। পরে একে একে অঙ্কুশ, পরিন্দা, তিরঙ্গার মতো ব্লক বাস্টার ছবিতে মনে রাখার মতো অভিনয়। মিলিটারি অফিসার মেজর চৌহানের চরিত্রে প্রহারে তাঁর অভিনয় আজও জনমানসে উজ্জ্বল। পরিন্দায় সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পাশাপাশি ক্রান্তিবীরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান নানা পাটেকর। এছাড়াও গুলাম এ মুস্তাফা, যশবন্ত, আব তক ছাপ্পান্, শক্তির মতো সুপারহিট ছবিতে ব্যতিক্রমী অভিনেতা হিসাবে দর্শকমহলে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। পর্দায় তাঁর প্রতিবাদী কন্ঠস্বর ছিল আক্ষরিক অর্থেই সাধারণ মানুষের না বলতে পারা কথা। প্রহারে অভিনয় ও পরিচালনার আগে রীতিমতো সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি।ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাম্মানিক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পাশাপাশি ছিলেন টেরিটোরিয়াল আর্মির মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। বলিউডে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কারগিল যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

 

আসলে নানা পাটেকর হারেননি। নানা পাটেকররা হারেন না। জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে বিদায় নিলেও থেকে যায় তাঁদের দৃপ্ত ভঙ্গির প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। থেকে যায় সপাট জবাব দেওয়ার গভীর অভিনিবেশের রক্তিম স্বাক্ষর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *