পরিবর্তনের পরেও শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চালু হল না সিটি স্ক্যান পরিষেবা
প্রশান্ত ঘোষ, রঙ নিউজ , চন্দ্রকোনা রোড:
তৃণমূল সরকারের পতনের পর পরিবর্তন এসেছে শাসনে, তৈরি হয়েছে নতুন পরিকাঠামো। কিন্তু প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বদলে যায়নি শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য পরিষেবার ‘সুপার’ তকমা বহাল থাকলেও বাস্তব চিত্রে মিলছে শুধুই হাহাকার। সবচেয়ে বড় চরম উদাসীনতার দৃষ্টান্ত— লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আনা সিটি স্ক্যান (CT Scan) যন্ত্রটি আজও মুখ ঢেকে পড়ে রয়েছে ধুলোর আস্তরণে। চালু হলো না সিটি স্ক্যান পরিষেবা, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। চন্দ্রকোনা রোড, গোয়ালতোড় থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জঙ্গলমহল এলাকার গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের একমাত্র ভরসা এই শালবনি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। পথ দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের চিকিৎসায় সবচেয়ে আগে প্রয়োজন হয় সিটি স্ক্যান। অথচ দীর্ঘ দিন ধরে এই সুবিধা না থাকায় বাইরে থেকে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে অথবা মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে দূরের মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বদলে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শালবনির এক প্রবীণ নাগরিকের কথায়, “জরুরি সময়ে সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হলে আক্ষরিক অর্থেই প্রাণ হাতে নিয়ে দৌড়াতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের চাকা ঘুরতেই সময় চলে যায়, অথচ হাসপাতালের ঘরে আধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিন ধুলো জমিয়ে নষ্ট হচ্ছে। চালুর কোন উদ্যোগ নেই।”
গরিব মানুষের পক্ষে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসায় চরম গাফিলতি ও বিলম্ব নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে বারবার এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও মিলছে কেবল আশ্বাস। স্থানীয় ও আশেপাশের গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে টেকনিশিয়ান নিয়োগ করে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে এই সিটি স্ক্যান পরিষেবা চালু করা হোক।
পরিবর্তনের পরেও স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বেহাল দশা কেন কাটিয়ে ওঠা গেল না? সেই প্রশ্নই এখন বাতাস ভারি করছে শালবনি ও স্থানীয় এলাকার মানুষদের। কর্তৃপক্ষ কি তবে আরও কিছু অসহায় রোগীদের দুর্ভোগের অপেক্ষায় রয়েছে? উত্তর খুঁজছে সমগ্র শালবনি।

