বদলাচ্ছে ISRO, মহাকাশে বাড়ছে বেসরকারি অংশীদারিত্ব
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে আসতে চলেছে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন। ভবিষ্যতে রকেট ও উপগ্রহের নিয়মিত উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান ও মহাকাশ পরিকাঠামোয় বেশি গুরুত্ব দেবে ISRO। বেসরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে উৎপাদনের বড় অংশ।
Business Today-র India @ 100 Economy Summit-এ এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন IN-SPACe-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা। তাঁর বক্তব্য, ISRO ভবিষ্যতে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না; রকেট উৎপাদনের দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি ক্ষেত্র বা PSU-র হাতে।
এই পরিবর্তনের প্রথম ধাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে Small Satellite Launch Vehicle বা SSLV-কে ঘিরে। দরপত্রের মাধ্যমে এর প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার হস্তান্তর করা হয়েছে Hindustan Aeronautics Limited-এর হাতে। পরবর্তী পর্যায়ে PSLV এবং LVM3-এর উৎপাদনও বেসরকারি সংস্থার হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র বেসরকারি শিল্পকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ISRO-র ভূমিকারও বদল ঘটবে। পরিণত প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। নতুন একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্বও আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় মহাকাশ অর্থনীতিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারি চাহিদা, মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ—এই তিন ক্ষেত্রকে বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে সরকারকে ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’-এর ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা।
ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা দফতর বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ৩১টি উপগ্রহের বরাত দিয়েছে। বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করবে ISRO। পাশাপাশি, বেসরকারি সংস্থার নিজস্ব উপগ্রহ ও মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং সেই সম্পদ থেকে তথ্য ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের নতুন মডেলও তৈরি হচ্ছে।
অর্থাৎ, ভারতের মহাকাশ অভিযানে ISRO থাকবে গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রভাগে, আর উৎপাদন ও বাণিজ্যিক পরিচালনায় ক্রমশ বাড়বে বেসরকারি ক্ষেত্রের ভূমিকা।
