বেঙ্গালুরুর পাবে পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

বেঙ্গালুরুর পাবে পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

 

রাজেশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কো-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

 

কেজি কেজি পচা মাংস, মেয়াদ পেরোনো দুধ-দই, পচন ধরা মাছ ও মাশরুম। এমনকি রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ তেলও। বেঙ্গালুরুর নামী রেস্তোরাঁ ও পানশালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে উদ্ধার হল এমনই বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের ও পচা খাবার। Food Safety and Drugs Administration-এর আধিকারিকেরা শহরের একাধিক জনপ্রিয় খাবারের জায়গায় হানা দিয়ে মোট ১৩২ কেজি খাবার এবং ১৫ লিটার রান্নার তেল বাজেয়াপ্ত করেছেন। অভিযানে উঠে এসেছে, ঝাঁ-চকচকে রেস্তোরাঁর আড়ালে কোথাও কোথাও খাবার সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধির পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

শহরের বিভিন্ন ‘ফুড ডেস্টিনেশন’-এ অভিযান চালায় Food Safety and Drugs Administration। অভিযোগ, জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলির ঝাঁ-চকচকে পরিবেশের আড়ালে রান্নাঘরের হাল ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। খাবারের মান এবং রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে একাধিক অনিয়মের সন্ধান মেলে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

 

অভিযানের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ইউবি সিটির একটি বিলাসবহুল মলের ‘স্কাই লাউঞ্জ’-এ। সেখানে রান্নাঘর থেকে প্রায় ৪৫ কেজি পচা মুরগি ও গরুর মাংস উদ্ধার করেন আধিকারিকেরা। উদ্ধার হওয়া মাংসে ছত্রাকও ধরেছিল বলে দাবি তাঁদের। রান্নাঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কারণে ওই লাউঞ্জটি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু মাংসই নয়, রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছিল প্রায় ১০ দিন আগে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া দুধ ও দইও।

 

এর পর অভিযান হয় শহরের আরও কয়েকটি হোটেল ও খাবারের দোকানে। ‘রয়্যাল চেন’ হোটেল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ৫০ কেজি হাঁসের মাংস এবং ৫ কেজি মাছ। ‘মাদ্রাজ কিচেন’ থেকে উদ্ধার হয় পচে যাওয়া ৫ কেজি সবুজ মটরশুঁটি। অন্য দিকে, ‘টেসকন’ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৫ কেজি মাশরুম।

 

বেঙ্গালুরুর মতো ব্যস্ত শহরে গত কয়েক বছরে রেস্তোরাঁ, পাব এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকানের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাইরে খাওয়ার প্রবণতাও। সেই আবহে জনপ্রিয় খাবারের জায়গাগুলিতে নিম্নমানের বা পচা খাবার ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে খাদ্য-নিরাপত্তা নিয়ে। প্রশাসনের এই অভিযান তাই শুধু কয়েকটি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়, শহরের খাদ্য-ব্যবস্থার উপরেও বড়সড় সতর্কবার্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *