মাঝ আকশে আতঙ্ক! ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, আহত ১৭; তদন্তে DGCA
দেবপ্রিয়া বারিক : রঙ নিউজ
নয়াদিল্লি | ৫ আগস্ট ২০২৬

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমানে মাঝআকাশে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত অবস্থায় বিমানটি হঠাৎই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। আকস্মিক এই উচ্চতা পরিবর্তনে কেঁপে ওঠে গোটা কেবিন। আসন ছেড়ে ছিটকে পড়েন একাধিক যাত্রী ও কেবিন ক্রু। ঘটনায় চারজন কেবিন ক্রুসহ মোট ১৭ জন আহত হন। গুরুতর জখম হন এক কেবিন ক্রু সদস্য।
এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 নম্বরের এয়ারবাস A320neo বিমানটিতে তিন শিশুসহ ১৩৭ জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। প্রাথমিক ধাক্কার পর পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই বিমানবন্দরে জরুরি চিকিৎসা দল ও অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়।

আহতদের প্রথমে বিমানবন্দরের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে ফর্টিস হাসপাতাল, বসন্ত কুঞ্জ এবং একটি বিশেষায়িত স্পাইন কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি সকল যাত্রী ও কেবিন ক্রু সদস্যের অবস্থা স্থিতিশীল।
ঘটনার পর প্রথমে প্রবল টার্বুলেন্সকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হলেও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে, এটি সাময়িক প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফলও হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে বিমানটিকে পরিষেবা থেকে সরিয়ে হ্যাঙ্গারে রাখা হয়েছে। ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) জব্দ করে বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তে বিমানের প্রযুক্তিগত ত্রুটি, উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি—সবকটি দিকই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে DGCA।

এক যাত্রীর দাবি, ঘটনার পর পাইলট প্রথমে লখনউয়ে জরুরি অবতরণের সম্ভাবনার কথা জানালেও পরে দিল্লিতে উন্নত চিকিৎসা সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানেই বিমান অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ: বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, এমন ঘটনার ক্ষেত্রে DGCA-র পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বাধ্যতামূলক। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, সংশোধনী ব্যবস্থা বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।
