*শেষ লুকোচুরি; আর জি কর কাণ্ডে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান*
নবনীতা পাল: রঙ নিউজ
আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Case) তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গ্রেফতার। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হল পানিহাটি পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে। বুধবার গভীর রাতে খড়দহ থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে গ্রেফতার করেন। আরজিকর কান্ডে তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের অভিযোগের তদন্তে এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আরজি কর মামলায় নতুন করে খড়দহ থানায় ডায়েরি করেছিলেন তিলোত্তমার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর একে একে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, সোমনাথ দে দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তাঁকে ধরতে গিয়ে বারবার জায়গা বদলের তথ্য পান তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, একাধিক ডেরায় আত্মগোপন করেছিলেন পানিহাটি পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এমনকি নিজের পুরনো মোবাইল নম্বরও বদলে ফেলেছিলেন তিনি। একের পর এক নতুন সিম ব্যবহার করায় তাঁর অবস্থান নির্দিষ্ট করে খুঁজে বের করতে তদন্তকারীদের যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরুতে তাঁর সন্ধান মেলে। সোমনাথের খোঁজে এর আগে ওড়িশার একাধিক এলাকায় অভিযান চালানোর পাশাপাশি হায়দ্রাবাদেও তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, বুধবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে সোমনাথকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে সেখানকার সিটি সিভিল কোর্টে পেশ করা হবে। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর খড়দহ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিকে, আরজি কর সংক্রান্ত মামলায় সোমবার আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন নির্মল ঘোষ। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দুটি মামলায় জামিন পেলেও এখনই জেল থেকে বেরোতে পারছেন না। কারণ, আরও দুটি মামলায় তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে ব্যারাকপুর আদালত।
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার করে দেওয়ার অভিযোগে নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সোমনাথ দে-র গ্রেফতারির পর তদন্তের পরবর্তী ধাপ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁকে জেরা করে তরুণী চিকিৎসকের দেহ সৎকারের ঘটনায় কারা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনার পিছনে আরও কোনও তথ্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
