নেপালের পর বাংলাতেও নজর! ফরাক্কার ১০৯ গেট ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
দেবপ্রিয়া বারিক: সিনিয়র রিপোর্টার: রঙ নিউজ
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ-জনিত বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নজর ভারতের নদী ব্যবস্থায়। নেপাল থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জল ও প্রবল বৃষ্টির জেরে বিহারে গঙ্গা, গণ্ডক ও কোশি নদীর জলস্তর বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক ব্যারেজের গেট খুলে জল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে সামনে এসেছে ফরাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের প্রসঙ্গ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সব ১০৯টি গেট খোলা মানেই পশ্চিমবঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বন্যা হবে, এমন কোনও সরাসরি বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত নেই। ফরাক্কা মূলত গঙ্গার অতিরিক্ত জল নিয়ন্ত্রণ ও downstream প্রবাহ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো।
তবে ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সুতি, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ ও জলঙ্গী-সহ গঙ্গা-তীরবর্তী এলাকায় জলস্তর ও ভাঙনের দিকে নজর বাড়ানো হয়েছে। ফরাক্কায় গঙ্গার জল বিপদসীমার কাছাকাছি বা উপরে যাওয়ার খবরও এসেছে।
এদিকে বিহারের বন্যা পরিস্থিতি সামলাতে ফরাক্কার সব গেট খোলার অনুরোধ করেছিল বিহার সরকার। কারণ অতিরিক্ত জল দ্রুত downstream-এ সরিয়ে দিলে বিহারের কিছু এলাকায় চাপ কমতে পারে—যদিও এর প্রভাব নদীর নিম্ন অববাহিকায় কী হবে, তা নির্ভর করবে প্রবাহ, বৃষ্টি ও নদীর বর্তমান অবস্থার উপর।
বাংলার সামনে এখন মূল প্রশ্ন—জল কতটা নামবে, আর নদীর স্তর কতটা উঠবে?
তাই আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন নজরদারি ও সতর্কতা। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। নদী-পাড়ের বাসিন্দাদের সরকারি সতর্কবার্তা ও জলস্তরের আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নেপালের বিপর্যয়ের ঢেউ কি শেষ পর্যন্ত গঙ্গার নিম্ন অববাহিকাতেও বড় চাপ তৈরি করবে? নজর এখন ফরাক্কার দিকে।
