মন্দিরে দীর্ঘায়ু নয়, ‘মুক্তির’ প্রার্থনা! উজ্জয়নের রামঘাটে কেন জ্বলে মৃত্যুর নামে প্রদীপ?
দেবপ্রিয়া বারিক: সিনিয়র রিপোর্টার: রঙ নিউজ
মন্দিরে গিয়ে মানুষ কী চান? সুস্থতা, সমৃদ্ধি, দীর্ঘ জীবন কিংবা পরিবারের মঙ্গল—সাধারণত প্রার্থনার তালিকা এমনই। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে শিপ্রা নদীর তীরে এমন একটি মন্দির রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একেবারেই অন্যরকম এক বিশ্বাস। এখানে নাকি কেউ কেউ নিজের বা প্রিয়জনের ‘মৃত্যু’ নয়, বরং কষ্ট থেকে মুক্তি ও মোক্ষের প্রার্থনা নিয়ে আসেন।
উজ্জয়নের ঐতিহাসিক রামঘাটে অবস্থিত ধর্মরাজ–চিত্রগুপ্ত মন্দিরকে ঘিরেই এই অদ্ভুত লোকবিশ্বাস। ধর্মরাজকে যম বা মৃত্যুর বিচার-ব্যবস্থার সঙ্গে এবং চিত্রগুপ্তকে মানুষের কর্মের হিসাবরক্ষক হিসেবে দেখা হয়। ফলে মন্দিরটির ধর্মীয় আবহে জন্ম, মৃত্যু ও কর্মফলের ধারণা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মৃত্যু চাইতে আসেন মানুষ?
শুনতে যতটা ভয়ঙ্কর, বিশ্বাসটির ব্যাখ্যা ততটাই আলাদা।
স্থানীয় প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগা কোনও ব্যক্তি যখন জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন, তখন তাঁর পরিবারের সদস্যরা এখানে বিশেষ পুজো দিতে পারেন। উদ্দেশ্য—যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রদীপ জ্বালিয়ে ধর্মরাজ ও চিত্রগুপ্তের কাছে প্রার্থনা করা হয় তাকে রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। এরপর ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার ঘণ্টার মধ্যে কোনও না কোনও ফল পাওয়া যায়—এমন দাবি মন্দিরের পুরোহিত ও স্থানীয় বিশ্বাসে রয়েছে সেই মুক্তি যদি সুস্থতার মাধ্যমে আসে, সেটিও কাম্য; আর যদি জীবনের শেষপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির শান্তিপূর্ণ প্রস্থান ঘটে, সেটিকে কেউ কেউ মোক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
