নয় দিন পর টানেল থেকে জীবন্ত দুই শ্রমিক
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর প্রায় নয় দিন ধরে ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক। ২৬ অগস্টের বিপর্যয়ে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে টানেলের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে পড়েন সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজন।
নেপাল সেনা, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ধারকারী দলের টানা অভিযানের পর তাঁদের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়। টানেলের ভিতর থেকে মানুষের আওয়াজ শোনা এবং যোগাযোগ স্থাপিত হওয়াই দেয় নতুন আশার আলো। পরে বোল্ডার ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে দু’জনকেই নিরাপদে বাইরে আনা হয়।
কীভাবে এতদিন তাঁরা বেঁচে রইলেন? ভূগোলবিদ ড. ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর মতে, এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ ‘এয়ার পকেট’। পাহাড়ি বন্যায় জলের সঙ্গে বিপুল পাথর, মাটি ও পলি এসে টানেলের কোনও অংশের মুখ বন্ধ করে দিলে তার পিছনে তুলনামূলক শুকনো, বদ্ধ জায়গায় বাতাস আটকে থাকতে পারে। সেই সীমিত বায়ুস্তরই দীর্ঘ সময় শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে থাকতে পারে।
হিমালয়ের খাড়া নদীখাত, আকস্মিক বন্যা এবং বিপুল ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ—সব মিলিয়ে এই উদ্ধার শুধু মানবিক সাফল্য নয়, দুর্যোগের মধ্যেও ভূ-প্রকৃতি কীভাবে কখনও কখনও বেঁচে থাকার পরিসর তৈরি করে, তার এক বিরল দৃষ্টান্ত।
