মহানায়ক স্মরণে বড় উদ্যোগ

মহানায়ক স্মরণে বড় উদ্যোগ

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কো-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

বাঙালির আবেগের মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে কলকাতায় শুরু হল একগুচ্ছ বিশেষ উদ্যোগ। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নন্দন প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে জন্মশতবর্ষের বিশেষ উদযাপন। উত্তম-স্মরণে নন্দন চত্বরে আমবাঙালির উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাজমাধ্যমেও দিনভর ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে ছিলেন মহানায়ক।

আজ, ৪ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে। একইসঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে করা হয়েছে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ভারতবর্ষ উত্তমকুমারকে আগেই যথাযথ স্বীকৃতি দিয়েছে—তাই নতুন করে কিছু পাওয়ার নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের মানুষদের নিয়েই এগিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।

ফিল্ম সেন্টারে থাকবে ৭০০–৭৫০ আসনের দুটি আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ, প্রিভিউ থিয়েটার, ফুড কোর্ট ও প্রশস্ত কার পার্কিং। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি হবে ১০০০ আসনের অডিটোরিয়াম ও ওপেন এয়ার থিয়েটার। পাশাপাশি অ্যানিমেশন, VFX, গেমিং, কমিকস, এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের অত্যাধুনিক ল্যাব ও স্টুডিও থাকবে।

বাংলা সিনেমায় অ্যাডভেঞ্চার ও ফ্যান্টাসির মতো ঘরানার প্রসার এবং ব্যয়বহুল VFX প্রযুক্তির চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পরিকাঠামো। প্রকল্পের DPR ইতিমধ্যেই প্রস্তুত; আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য।

এই গোটা উদ্যোগের অন্যতম কান্ডারী অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। জন্মশতবর্ষ কমিটির সঙ্গে নবান্নে ফের বৈঠকও হবে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—“আমরা না থাকলেও ২০০ বছর পর বাংলা ও বাঙালি যেন এই সৃষ্টিশীল কাজগুলি মনে রাখে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *