যেখানে দেবীর মূর্তি নেই, তবু জাগ্রত শক্তি
গুজরাটের আম্বাজি মন্দিরে মূর্তির বদলে পূজিত হয় পবিত্র যন্ত্র
দেবপ্রিয়া বারিক: সিনিয়র রিপোর্টার: রঙ নিউজ

গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলার পাহাড়ি ভূদৃশ্য পেরিয়ে যখন আম্বাজির দিকে এগোনো যায়, তখন মন্দিরের চূড়ার লাল পতাকা দূর থেকেই চোখে পড়ে। কিন্তু এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য তার স্থাপত্যে নয়—গর্ভগৃহে দেবীর প্রচলিত কোনও মূর্তি নেই।
ভক্তের সামনে রয়েছে একটি পবিত্র শ্রীযন্ত্র। গর্ভগৃহের একটি কুলুঙ্গিতে স্থাপিত সেই পবিত্র যন্ত্রই মূল আরাধ্য। আর সেই যন্ত্রকেই কেন্দ্র করে চলে দেবী আরাধনা। আম্বাজি প্রাচীনকাল থেকেই ‘আরসুরি আম্বা’ নামে পূজিত এবং মন্দিরটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম বলে বিশ্বাস করা হয়।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী সতীর হৃদয় এখানে পড়েছিল
আম্বাজির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সতী ও মহাদেবের সেই বহুল পরিচিত পৌরাণিক কাহিনি।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দক্ষযজ্ঞের অপমান সহ্য করতে না পেরে সতী আত্মাহুতি দেওয়ার পর শিব তাঁর দেহ কাঁধে নিয়ে উন্মত্তের মতো ঘুরতে থাকেন। বিশ্বজগতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ডিত করেন। সেই দেহের বিভিন্ন অংশ যেখানে পতিত হয়েছিল, সেগুলিই পরবর্তীকালে শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিত হয়।
আম্বাজিকে ঘিরে প্রচলিত বিশ্বাস—এখানেই সতীর হৃদয় পতিত হয়েছিল। সেই কারণেই এই স্থানকে শক্তির বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে ভক্তরা মানেন।
এখানে দেবীকে হয়তো মূর্তিতে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁকে খুঁজতে হয় বিশ্বাসে।
আর সেই কারণেই আম্বাজির সবচেয়ে বড় রহস্য হয়তো কোনও গুপ্ত কক্ষ বা হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস নয়—বরং এটাই প্রমাণিত
চোখের সামনে মূর্তি না থাকলেও ভক্তি পূর্ণ হতে পারে। একথা হাজার হাজার মানুষের বিশ্বাসে—আজও ‘হ্যাঁ’।

