চিনের সেনা কমলেও সতর্ক ভারত
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
ভারত-চিন সীমান্তে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে মিলছে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত। উত্তর সীমান্তের এলএসি বরাবর চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ-র মোতায়েন কমার খবর এবং রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে ধারাবাহিক আলোচনাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল প্রমোদ সেহগাল। তবে তাঁর স্পষ্ট পরামর্শ—চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিকে স্বাগত জানিয়েও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে কোনও শিথিলতা নয়।
সেহগালের মতে, ব্রিকস সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগর-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা চিনও ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে চাইছে না। তবে ২০২০-র পর ভারত-চিন সম্পর্কের বাস্তবতা বদলেছে। তাই রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এলএসি-তে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং কোনও ব্যত্যয় না ঘটার বিষয়টিই হতে হবে মূল মাপকাঠি।

সেহগাল সতর্ক করেছেন চিনের উন্নত সীমান্ত পরিকাঠামো নিয়েও। সড়ক, রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চিন দ্রুত রিজার্ভ বাহিনী সম্মুখসারিতে আনতে পারে। ভারতের ভৌগোলিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া তুলনামূলক দীর্ঘ। ফলে চিন সেনা সরালেও প্রয়োজনে দ্রুত ফের মোতায়েন করতে সক্ষম। তাই ভারতের সামরিক মোতায়েন, সীমান্ত পরিকাঠামো এবং আধুনিকীকরণের গতি বজায় রাখা জরুরি।
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, disengagement, de-escalation এবং de-induction এক নয়। গালওয়ান-পরবর্তী অভিজ্ঞতা তাই শিথিলতার বিরুদ্ধে সতর্ক করে। একই সঙ্গে কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক, নতুন হটলাইন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থানীয় উত্তেজনা দ্রুত কমিয়ে বড় সংঘাত এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে সেহগাল বলেন, গোয়েন্দা সক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং সেনা-বিমান-নৌবাহিনীর যৌথ প্রস্তুতির শক্তি এই অভিযানে স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি চিহ্নিত হয়েছে কিছু ঘাটতিও। সেগুলি পূরণে ড্রোন, আধুনিক অস্ত্র ও অন্যান্য ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার যুক্ত করে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ চলছে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট—আলোচনা চলুক, কিন্তু একাধিক ফ্রন্টের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভারতের সামরিক প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি রাখা যাবে না।

