জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ, নতুন নামে ও প্রতীকে উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবির
সংবাদদাতা – দিব্যেন্দু দাস , এডিটর, রঙ নিউজ
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ আপাতত ব্যবহারের জন্য ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও নাম-প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধের জেরে এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিবাদমান কোনও পক্ষই আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে বিকল্প নাম ও মুক্ত প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
কমিশনের এই নির্দেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে মূল বিরোধের নিষ্পত্তি পরবর্তী প্রক্রিয়ায় হবে বলে জানানো হয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের জন্য নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ বরাদ্দ করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের জন্য ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। এই নাম ও প্রতীকও আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য।
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলীয় নাম এবং সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি সামনে এসেছে। কমিশন মনে করেছে, বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য বিস্তারিত প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুই পক্ষকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তিনটি করে বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার পর কমিশন পৃথক পরিচয় নির্ধারণ করে।
তবে ‘জোড়াফুল’ কি চিরতরে চলে গেল—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপটি অন্তর্বর্তীকালীন। অর্থাৎ ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীকটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়েছে—এমন ঘোষণা কমিশন করেনি। মূল নাম ও প্রতীকের দাবির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
এদিকে, প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক দলটির নির্বাচনী পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই উপনির্বাচনের আগে প্রতীকটি ব্যবহার করতে না পারার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন তৈরি করেছে।
তবে নতুন নাম ও প্রতীকগুলি বর্তমানে উপনির্বাচনকেন্দ্রিক অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। ফলে ভবিষ্যতে দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
