*নন্দীগ্রামের পর এবার রেজিনগরেও নাটক: মনোনয়ন প্রত্যাহার রবিউল আলমের*
নবনীতা পাল: রঙ নিউজ
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর এবার রেজিনগরেও নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করার পর ফের ইউ টার্ন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর।
নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরেই চড়েছে জল্পনা। গতকাল নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর এবার রেজিনগর থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের অবস্থান বদল করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রবিউল।
শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল আলম চৌধুরী প্রথমে জানান, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না এবং নির্বাচনী প্রতীক একটি বড় বিষয়।
রবিউলের কথায়, “নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।”
তবে বেলা বাড়তেই ছবিটা বদলে যায়। একাধিক তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথা হয় বলে জানান রবিউল। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
রবিউল বলেন, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই লড়বেন। প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরে কার্যত নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এরপরই ২০০৭ সালের একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। এই গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না এবং তাঁর প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে এই নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
