ভিনসেন্ট পাস্টোরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে৷
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় (কালচারাল কো-অর্ডিনেটর)
রঙ নিউজ
৮০ বছর বয়সে জনপ্রিয় ধারাবাহিক এইচবিও-এর ‘দ্য সোপ্রানোস’-এ সালভাতোরে “বিগ পুসি” বোনপেনসিয়েরোর চরিত্রে অভিনয় করা মার্কিন চরিত্রাভিনেতা ভিনসেন্ট পাস্টোরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে৷
১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ব্রঙ্কসে জন্মগ্রহণকারী ভিনসেন্টের হলিউডে আসার পথটি ছিল একেবারেই গতানুগতিক ছিল না। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং এরপর নাটকে পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, যা তাঁর কয়েক দশক দীর্ঘ অভিনয় জীবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। বহু বছর নাইটক্লাবেও লিমো চালক হিসেবে কাজ করে নিজের ভরণপোষণ চালাতেন। একটি কমিউনিটি থিয়েটারের নাটকে অভিনয় করার সময় অভিনেতা ম্যাট ও কেভিন ডিলন তাঁকে আবিষ্কার করেন এবং যা তাঁকে এই ক্ষেত্রে প্রথম সত্যিকারের সুযোগ এনে দেয়।
অভিনেতার ম্যানেজার রবার্ট অ্যাটারম্যান শনিবার এএফপি-কে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, হলিউডের বিনোদন মাধ্যম হেডলাইন জানিয়েছে যে, নিউইয়র্কের বাসিন্দা পাস্টোরকে ব্রঙ্কসে তাঁর বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃতি দিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে যে তিনি স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছেন। কর্তৃপক্ষ এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাইনি।
ভিনসেন্ট তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মাফিয়া-কেন্দ্রিক সিনেমার জগতে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে, যা পরবর্তীতে তাকে পরিচিতি এনে দেয়। এর মধ্যে ছিল মার্টিন স্করসেসির ‘ গুডফেলাস’ -এ নামহীন একটি উপস্থিতি এবং ‘কার্লিটো’স ওয়ে’ ও ‘মেন অফ রেসপেক্ট’ -এ অভিনয় । কিন্তু ১৯৯৯ সালে টনি সোপ্রানোর বিশ্বস্ত বন্ধু থেকে এফবিআই-এর তথ্যদাতা বনপেনসিয়েরো চরিত্রে অভিনয়ই তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। শো-টির দ্বিতীয় সিজনে ভিনসেন্টের চরিত্রটিকে মেরে ফেলা হলেও, তিনি সিরিজটির পুরোটা সময় জুড়ে ফ্ল্যাশব্যাক এবং অতিথি চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন এবং একটি ড্রামা সিরিজে অসাধারণ সম্মিলিত অভিনয়ের জন্য তিনি কলাকুশলীদের সাথে যৌথভাবে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
পাস্তোরের ম্যানেজার রবার্ট অ্যাটারম্যান বলেছেন- “বিশ্বের কাছে তিনি অবিস্মরণীয় ‘বিগ পুসি’ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন, কিন্তু আমাদের মতো যারা তাকে চিনতাম, তাদের কাছে তিনি ছিলেন আরও অনেক কিছু।তিনি অভিনেতা হতে ভালবাসতেন। তিনি তাঁর কাজের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তরুণ অভিনেতাদের প্রতি সর্বদা উৎসাহী, শ্রদ্ধাশীল ও উদার ছিলেন। যখনই পারতেন, তিনি সময় নিয়ে তাদের দিকনির্দেশনা ও সমর্থন দিতেন,” অ্যাটারম্যান বলেন।
অ্যাটারম্যান আরও বলেল “ভিনসেন্টের বন্ধুত্ব, তাঁর আনুগত্য, তাঁর রসবোধ এবং তাঁর হৃদয়ের অভাব অনুভব করব।” মৃত্যুকালে তিনি তার কন্যা রেনিকে রেখে গেছেন।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
