জল কেড়ে নিল ৮৫টি প্রাণ, তবু হার মানেনি অসম
ত্রাণশিবিরে হাজারো পরিবার, দুর্গত মহিলাদের হাতে আগাম ₹২,৫০০
দেবপ্রিয়া বারিক : রঙ নিউজ
গুয়াহাটি, ৫আগস্ট ২০২৬:
একদিকে বুকসমান জল, অন্যদিকে প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা। প্রকৃতির নির্মম রোষে বিধ্বস্ত অসম আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫-এ পৌঁছেছে। তবে অনুমান করা হচ্ছে এই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, ডুবে রয়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, আর হাজার হাজার মানুষ এখনও ত্রাণশিবিরে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অপেক্ষায়।

দুর্গত এলাকাগুলিতে উদ্ধার অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে একাধিক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে প্রশাসন, NDRF, SDRF, ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক দিন-রাত এক করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কোথাও নৌকায় করে গর্ভবতী মহিলাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কাঁধে তুলে উদ্ধার করছেন জওয়ানরা। শিশুদের জন্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুধ, শুকনো খাবার ও ওষুধ।

মানুষের এই কঠিন সময়ে আর্থিক স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকার অরুণোদয় ৩.০ প্রকল্পের আওতায় বন্যাকবলিত জেলার যোগ্য মহিলা উপভোক্তাদের আগাম ₹২,৫০০ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দুর্যোগের মুহূর্তে এই অর্থ বহু পরিবারের খাদ্য, ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তাৎক্ষণিক সহায়তা করবে। ত্রাণশিবিরে থাকা অনেক মহিলাই বলেছেন, এই সহায়তা শুধু অর্থ নয়—এটি নতুন করে বাঁচার সাহস।
একদিকে বন্যাদুর্গত মানুষকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে অসংখ্য অসহায় জীবনের পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া, তবু অন্ধকারের মধ্যেও আশার আলো জ্বালিয়ে রেখেছে অসংখ্য উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ মানুষ। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টাই আজ প্রমাণ করছে—প্রকৃতির কাছে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু মানবিকতার শক্তিকে কখনও হারানো যায় না।

