মার্শাল সাসপেনশনে স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন কুণাল

মার্শাল সাসপেনশনে স্পিকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন কুণাল

 

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় কালচারাল

কো-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

বিধানসভার মার্শাল তথা সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই স্পিকার নিজে হস্তক্ষেপ করে গোটা ঘটনার পুনর্মূল্যায়ন করুন। প্রয়োজনে সাসপেনশনের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

কুণালের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মার্শালকে সাসপেন্ড করা হল। তাঁর মতে, যে অভিযোগকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। সেই কারণেই তিনি এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তৃণমূল বিধায়কের আরও বক্তব্য, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করে তাঁর ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছিল। সেই জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরেই মিটিয়ে ফেলার সুযোগ ছিল বলে তাঁর মত। কিন্তু তার বদলে সরাসরি সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিধানসভার প্রধান সচিবের হাতে কোনও মার্শালকে সাসপেন্ড করার ক্ষমতা আদৌ রয়েছে কি না। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

উল্লেখ্য, গত ৪ অগস্ট বিধানসভার সচিবালয়ের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়, অষ্টাদশ বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সময় দায়িত্ব পালনে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায় দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড রাখা হবে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এই সময় তিনি জীবিকা ভাতা পাবেন বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্শালকে ঘিরে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিধানসভার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পরিধি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার যৌক্তিকতা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কুণাল ঘোষের আবেদনের পর স্পিকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *