কার্গোয় কোটি টাকার গয়না, ধৃত ১
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
কলকাতা বিমানবন্দরে ডোমেস্টিক কার্গোর আড়ালে কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না পাচারের ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। সন্দেহজনক গতিবিধির জেরে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সোনা ও হিরের ব্রেসলেট, নেকলেস, আংটি, চুড়ি-সহ নানা ধরনের অলঙ্কার। এই বিপুল মূল্যের গয়না কোথা থেকে এল, কার জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছনোর কথা ছিল— সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নেমেছে বিধাননগর কমিশনারেট ও NSCBI থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, ডোমেস্টিক কার্গোর মাধ্যমে একটি কনসাইনমেন্ট কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছয়। কার্গো থেকে মাল নামানোর পর সেটি নিতে আসেন এক ব্যক্তি। সেই সময়ই তাঁর আচরণে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে বিমানবন্দর চত্বরে নাকা চেকিংয়ের সময় স্কুটারে করে ওই গয়নাগুলি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তখনই স্কুটার-সহ তাঁকে আটক করে NSCBI থানার পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন NSCBI থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। উপস্থিত হন বিধাননগর কমিশনারেটের এসিপি (ডিডি)-ও। তল্লাশিতে উদ্ধার হয় এক কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ব্রেসলেট, নেকলেস, আংটি, চুড়ি-সহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান অলঙ্কার।
তদন্তকারীদের মতে, এই উদ্ধার কেবল একটি কনসাইনমেন্ট বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা নয়, এর নেপথ্যে একটি সুসংগঠিত পাচারচক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে, গয়নাগুলি ঠিক কোথা থেকে পাঠানো হয়েছিল, কাদের মাধ্যমে কলকাতায় পৌঁছয়, এখানে কার হাতে তা তুলে দেওয়ার কথা ছিল, কোথায় পাচার করার পরিকল্পনা ছিল এবং এই গোটা চক্রের মূল হোতারা কারা। কনসাইনমেন্টের প্রেরক ও প্রাপক— উভয়ের পরিচয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে NSCBI থানায় নিয়ে গিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নগদ টাকা, সোনা ও অস্ত্র উদ্ধারের একাধিক ঘটনায় তৎপর হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সবচেয়ে বড় উদ্ধার হয়েছে বীরভূমে। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের দেউচার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। উদ্ধার হওয়া নগদ ও সোনার সম্মিলিত মূল্য ৫০ কোটিরও বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই আবহেই কলকাতা বিমানবন্দরে কোটি টাকার সোনা ও হিরের গয়না উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে পাচারচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
