মহাকাশে অসুস্থ, NASA ছাড়লেন মাইক

মহাকাশে অসুস্থ, NASA ছাড়লেন মাইক

 

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কো-অর্ডিনেটর

রঙ নিউজ

 

মহাকাশে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন প্রায় ২০ মিনিটের জন্য। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (ISS) থেকে তাঁকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। সেই ঘটনার কয়েক মাস পরেই NASA-কে বিদায় জানালেন মহাকাশচারী মাইক ফিনকে।

 

বুধবার ৫৯ বছর বয়সে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা থেকে অবসর নিলেন মাইক। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে কম্যান্ডার, মিশন স্পেশ্যালিস্ট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছেন চারটি অভিযানে। সব মিলিয়ে মহাকাশে কাটিয়েছেন ৫৪৯ দিন। মহাকাশে দীর্ঘতম সময় কাটানো মহাকাশচারীদের তালিকায় তিনি রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।

 

তবে মাইকের মহাকাশ-জীবনের শেষ অধ্যায়টি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য কারণে। তিনিই প্রথম মহাকাশচারী, যাঁকে অসুস্থতার কারণে ISS থেকে বিশেষ ভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। ২০২৫ সালের অগস্টে NASA-র Crew-11 অভিযানে পাইলট হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দেন মাইক। SpaceX-এর Dragon মহাকাশযানে করে অন্য মহাকাশচারীদের সঙ্গে পৌঁছন ISS-এ। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘটে বিপত্তি।

 

রাতে খাবার খাওয়ার সময় আচমকাই কথা বলার ক্ষমতা হারান মাইক। প্রায় ২০ মিনিট তিনি কথা বলতে পারেননি। ঠিক কী কারণে এমনটা হয়েছিল, তা এখনও প্রকাশ করেনি NASA। মাইকও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মুখ খোলেননি। তবে তাঁর হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়নি বলে জানা যায়। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় NASA। তিন মহাকাশচারীকে ISS-এ রেখে মাইক-সহ আরও তিন জনকে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই শেষ হয় তাঁদের অভিযান।

 

NASA-র প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান মাইকের বিদায় উপলক্ষে বলেন, ‘‘NASA-র ইতিহাসে মাইকের মতো এত নতুন অধ্যায় রচনার সুযোগ কম জনই পেয়েছেন।’’

 

বিদায়ী বার্তায় মাইক বলেন, NASA তাঁকে অসাধারণ সব মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। মহাকাশযান ওড়ানো থেকে শুরু করে তা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের কাজে অবদান রাখা—দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি।

 

শুধু মহাকাশচারী হিসেবেই নয়, দক্ষ বায়ুসেনা আধিকারিক হিসেবেও মাইকের পরিচিতি রয়েছে। আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্নেল তিনি। প্রায় ৩০ ধরনের যুদ্ধবিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পড়াশোনা করেছেন MIT-তে। সোভিয়েত ইউনিয়নে কসমোনটিক্স, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোনটিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অফ হিউস্টন-ক্লিয়ার লেকে প্ল্যানেটারি জিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করেন।

 

মহাকাশে কাজের সময়ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মাইক। ISS-এ এক বার মহাকাশচারীদের ঘাম ও মূত্রকে পানীয় জলে পরিণত করার বিশেষ যন্ত্রে গোলযোগ দেখা দিয়েছিল। সেই যন্ত্র মেরামত করেছিলেন তিনিই।

 

তিন দশকের মহাকাশ-অভিযানের পর অবশেষে NASA-কে বিদায় জানালেন মাইক ফিনকে। তাঁর কর্মজীবনের শেষ অধ্যায়টি যেমন শুরু হয়েছিল মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দিয়ে, তেমনই শেষ হল মহাকাশে ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত চিকিৎসাজনিত ঘটনার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *