টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে থাকা চিতাভস্ম কী সত্যি নেতাজীর?
দিয়া সাহা, রঙ নিউজ
কলকাতা, ভারত
যত দিন গেছে ততই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্যের মেঘের ঘনঘটা ক্রমশই বেড়েছে। দশকের পর দশক ধরে এই রহস্য বেড়েই চলেছে কিন্তু তার কোনই কুল কিনারা হয়ে ওঠেনি।
১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। আবার তা মানতে চান না অনেক নেতাজি বিশেষজ্ঞই। এই অবস্থায় জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফেরাতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ। জাপান থেকে নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তিনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
একাধিক কমিশন গঠন করেছে কেন্দ্র। ১৯৪৫-এর ১৮ অগস্ট, তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয় এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল তিন তদন্ত:
ফিগ্রস (১৯৪৬), শাহনওয়াজ কমিটি (১৯৫৬), খোসলা কমিশন (১৯৭৪) ৩ রিপোর্ট। এখান থেকেই শুরু রহস্যের।
শাহনওয়াজ কমিটি ও খোসলা কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী-তাইহোকুতেই নেতাজির দেহ দাহ করা হয়। সেখানেই প্রথমে ছিল চিতাভস্ম, ১৯৪৫-এর সেপ্টেম্বরে টোকিয়োর রেনকোজি মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়।
বলা হয়, তাইওয়ানে নেতাজির মৃত্যুর পর দেহ দাহ করা হয়। তারপর চিতাভস্ম জাপানে নিয়ে যাওয়া হয়। রেনকোজি মন্দিরে আট দশক ধরে সংরক্ষিত রয়েছে। রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম নেতাজির কি না, তা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অনিতা বসু পাফ।
২০০৫-এর মুখার্জি কমিশন রিপোর্টে বলা হয় বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর পক্ষে পর্যাপ্ত নথিগত প্রমাণ নেই। আর রেনকোজির চিতাভস্মও নেতাজির নয়। সরকার এই দুই দাবিই প্রত্যাখ্যান করে।
মুখার্জি কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, রেনকোজির দেহাবশেষ ইচিরো ওকুরা নামে এক জাপানি সৈনিকের হতে পারে।
এরই মধ্যে, জাপান থেকে নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তিনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়। অনিতা বসু পাফের পক্ষে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, জাপান থেকে নেতাজির নিয়ে এসে ভারতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁর কন্যা। এই আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস ইস্যু করল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ। এখন কেন্দ্রের জবাবের অপেক্ষায় সবাই।
তবে এই দ্বন্দ্বের জট আজ ৮১ বছর পর কাটাতে হলে , এই চিতাভস্মের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে DNA পরীক্ষা আবশ্যকীয়।
