উপনির্বাচনের আগে প্রতীক-জট, ঘাসফুল হারালে ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত মমতার

উপনির্বাচনের আগে প্রতীক-জট, ঘাসফুল হারালে ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত মমতার

 

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কো-অর্ডিনেটর

 

রঙ নিউজ

 

উপনির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ঘিরে অনিশ্চয়তা ক্রমেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দলের দুই শিবিরই নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে কোন শিবির কোন প্রতীক নিয়ে ভোটের ময়দানে নামবে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন, ঘাসফুল প্রতীক হারানোর আশঙ্কা তিনি দেখছেন না। তবে যদি কোনও কারণে সেই প্রতীক আর ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তাহলে নতুন প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়বেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রতীক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই সেই প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে প্রচারে নামবেন। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার শুরুর সময়েও ঘাসফুল প্রতীক মানুষের কাছে তেমন পরিচিত ছিল না, তবুও দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তাই নতুন প্রতীক পরিচিত করাতে তাঁর কোনও অসুবিধা হবে না বলেই তিনি দাবি করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যদি ঘাসফুল বা জোড়াফুল প্রতীক আর ব্যবহার করা না যায়, তাহলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অন্য কোন ফুলকেই নতুন নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই প্রতীক নিয়েই রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এবং বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

অন্যদিকে, প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষ শিবির এখনও কোনও বিকল্প কৌশলের ইঙ্গিত দেয়নি। ওই শিবিরের অন্যতম বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখছেন। কমিশন সমস্ত নথিপত্র এবং আইনি দিক বিচার করে যে রায় দেবে, সেটিই তাঁরা মেনে নেবেন। আপাতত প্রতীক নিয়ে অন্য কোনও পরিকল্পনা তাঁদের নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা না হওয়ায় উপনির্বাচনের আগে প্রতীক-সংক্রান্ত এই অনিশ্চয়তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন নজর কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *