কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে ফ্যাটি লিভার
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
ভারতে দ্রুত গতিতে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। বস্তুত দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, পুণে, মুম্বই, কলকাতা, ভোপালের মতো বড়ো শহর ছাড়িয়ে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাবা বসাচ্ছে দেশের গ্রামাঞ্চলেও যা কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তাবৎ চিকিৎসক মহলে। সারা দেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ ছুঁতে চলেছে যা যথেষ্ট উদ্বেগের।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রথমের দিকে এই রোগের লক্ষণ তেমন ভাবে পাওয়া যায় না। অন্য কোনোও সমস্যায় রোগ পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যে যকৃৎ চর্বির কবলে পড়েছে। এটিকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে তা লিভার ফাইব্রোসিস বা লিভারে ক্ষত থেকে সিরোসিস অফ লিভার বা পচন ধরে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে। এর পাশাপাশি হজমে চিরস্থায়ী সমস্যা থেকে রোগী আক্রান্ত হতে পারেন হৃদরোগেও।

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যকৃৎ বা লিভার। বস্তুত এটি শরীরের সবথেকে বড়ো গ্রন্থি যা পাচক রসের মাধ্যমে পরিপাকে সহায়তা করে। ফলে লিভারে চর্বির আধিক্য পরিপাকতন্ত্রকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে। অনেকের ধারণা, মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হবে। বিষয়টি আদৌ তা নয় বলে মত চিকিৎসকদের। তাঁদের মতে, মদ্যপানের পাশাপাশি স্থুলত্ব, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ যার পিছনে রয়েছে বর্তমান জীবনযাত্রার মান। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থেকে কাজ করা, চটজলদি খাদ্য হিসাবে প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড্ ফুড, অতিরিক্ত ভাজা পোড়া খাবার, মিষ্টি পানীয় ডেকে আনছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। জীবনযাত্রার মান বদলে ফেলে এইসব খাবার দূরে সরিয়ে রেখে সাধারণ ঘরোয়া খাদ্যের পাশাপাশি শরীরের ঘাম ঝরিয়ে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের পরামর্শ, রোগ প্রতিরোধ করতে কায়িক পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় লিভার ফাংশন টেস্ট, লিপিড প্রোফাইল ও সুগার পরীক্ষা করাতে হবে।

