একটি ভালোবাসার গল্প
(বিশেষ প্রতিবেদন)
✍🏾শাশ্বতী মোদক:Rong News
মা মাসি কিচেন” না এটি শুধু একটা রান্নার চ্যানেল না। এটা একটা ভালোবাসার গল্প। ঠাম্মির হাতের সুস্বাদু রান্না, আর দাদুকে আদর করে ডেকে খাওয়ানো – তাদের দুজনের ওই মিষ্টি খুনসুটি, মিষ্টি বকাবকি দেখার জন্যই অপেক্ষা করে থাকতাম। মনে হতো, নিজের বাড়ির ঠাকুমা দাদুকে দেখছি।
শেষ পোস্ট ছিল ১০ই আগস্ট। তারপর দাদু অসুস্থ হলেন… তারপর সব শেষ। বয়স হয়েছিল, অসুস্থও ছিলেন, তবুও মেনে নিতে কষ্ট হয়।
এই খবরটা আরও একটা জিনিস ভাবতে বাধ্য করে আজকের বর্তমান দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত মানুষদের। আজকাল আমরা দেখি, কাছের মানুষ চলে গেলে অনেকেই সেই শোকটাকেও কন্টেন্ট বানিয়ে ফেলে। দিনের পর দিন ভিউজের জন্য ভিডিও আসতে থাকে। কিন্তু এনাদের দেখো।
দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে হারিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে হারিয়েছেন। তবুও একটাবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে কান্নাকাটি করেননি। কোনো কন্টেন্ট বানাননি। এমনকি মৃত্যুর খবরটাও সঙ্গে সঙ্গে জানাতে পারেননি। গভীর শোক নিয়ে, অনেকটা সময় পর, শুধু কয়েকটা লাইনে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর প্রিয়জনকে হারিয়েছেন।
এটাই হয়তো পার্থক্য। এটাই হয়তো আসল ভালোবাসা, আসল শোক।
জানি না এর পরের ভিডিওগুলো কিভাবে হবে। দিদার রান্নাঘরটা হয়তো আজ থেকে অনেক ফাঁকা লাগবে। দিদার ওই “কেমন হয়েছে?” এবং উত্তরে দাদুর “সুন্দর” বলাটা আমরা আর শুনতে পাবো না। খুব মিস্ করবো। তবুও চাইবো, দিদা তুমি ভালো থেকো। মানুষ তো চলেই যায়, কিন্তু যারা থেকে যায় তাদের তো ভালো থাকতে হয়। তুমি তোমার এই ফেসবুক পরিবারের সাথে ভালো থেকো, তোমার কাজের মধ্যে ভালো থেকো, তোমার নিত্য নতুন রান্নার মধ্যে ভালো থেকো।
দাদুর আত্মার শান্তি কামনা করি। ভালো থাকবেন দাদু। ওপারে ভালো থাকবেন।
