মায়ের মুখাগ্নি শ্রাদ্ধ করেননি রজতাভ

মায়ের মুখাগ্নি শ্রাদ্ধ করেননি রজতাভ

 

শাশ্বতী মোদক:Rong News

 

মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর মুখাগ্নি বা শ্রাদ্ধশান্তি করতে নারাজ টলিউডের পরিচিত মুখ রজতাভ দত্ত। এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন, তাঁর বাবা জ্যোতির্ময় দত্তর মৃত্যুর পর মা সেভাবে কাঁদেননি। এক আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাবা। রজতাভরা দুই ভাই। এর মধ্যে রজতাভ ছোট। বাবার মৃত্যুর পর ডিপ্রেশন গ্রাস করছিল তাঁর মাকে। তবু সন্তানদের মানুষ করতে এবং সংসারের কথা মাথায় রেখে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসেন। জনপ্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্ত খুব কম বয়সে (নবম শ্রেণি) একটি দুর্ঘটনায় তাঁর বাবাকে হারান। সেই থেকে মা বেলাদেবীই তাঁর অবলম্বন। আজও তিনি সল্টলেকে যে বাড়িতে থাকেন সেটি তাঁর মায়ের তত্ত্বাবধানেই তৈরি। নাম- ‘বেলাভূমি’।

 

কেন করেননি শ্রাদ্ধশান্তি তার সপক্ষে রজতাভ দত্ত জানিয়েছেন, তাঁর মা আস্তিক হলেও তিনি নিজে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে আস্থাশীল নন। মা জীবিত থাকাকালীন তিনি মায়ের সব রকম সাধ পূর্ণ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে, মাকে জানিয়েই দিয়েছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে হিসাবে তিনি মুখাগ্নি বা শ্রাদ্ধ করবেন না। কারণ এসবে তাঁর বিশ্বাস নেই। বস্তুত যা বলেছিলেন বাস্তবে তাই করেছেন রজতাভ। রজতাভর দাদাই পারলৌকিক কাজ করেছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর নিরামিষ ভোজন বা অশৌচ পালনও করেননি অভিনেতা।

 

মায়ের সাথে বন্ডিংয়ের কথা ভুলতে পারেন না অভিনেতা। রজতাভর কথায়, মা তাঁদের উপর কখনো কিছু চাপিয়ে দিতেন না। এমনকি, রজতাভ হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিলেও সেভাবে ক্ষোভ বা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেননি বেলা দেবী।

রাতে বাড়ি ফিরে মাকে চাকরি ছাড়ার কথা বলায় মা শুধু তাঁকে বলেছিলেন, ‘কিছু বলে যাসনি তো’!ব্যাস, এটুকুই। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে মা বেলা দেবীর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর, খোলামেলা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ভরপুর।

রজতাভর ডাকনাম রনি।

সবার প্রিয় রনিদা টলিপাড়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সেখানেও তাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘রনিদা’ বলে ডাকেন। ১৯৯৮ সালে ‘আজব গায়ের আজব কথা’ (মতান্তরে ‘ভাই আমার ভাই’) ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০০১ সালে ‘পারমিতার একদিন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি বিএফজেএ (BFJA) পুরস্কার লাভ করেন। পরবর্তীতে খলনায়ক বা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তিনি অসামান্য জনপ্রিয়তা পান, যার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ (২০০৬) ছবির জন্য আনন্দলোক পুরষ্কার পান।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে রজতাভ প্রথমে একজন জুনিয়র আর্টিস্ট বা অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন।কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা পাকা করেন ।

এছাড়া জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘মিরাক্কেল’-এর বিচারক হিসেবেও তিনি ঘরে ঘরে পরিচিতি লাভ করেছেন।

 

সাক্ষাৎকারে অকপটে রজতাভ জানিয়েছেন যে মায়ের প্রতি শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি তাঁর। মাকে তাঁর প্লেনে চড়ানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু, মায়ের শরীর নানা কারণে দুর্বল থাকায় তা আর হয়ে ওঠেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *