গ্র্যান্ড বাহামা আইল্যান্ড ও হাঙরবন্ধু ক্রিস্টিনা – সমুদ্রতলে এক অবিশ্বাস্য মানবিকতার খোঁজ

গ্র্যান্ড বাহামা আইল্যান্ড ও হাঙরবন্ধু ক্রিস্টিনা – সমুদ্রতলে এক অবিশ্বাস্য মানবিকতার খোঁজ

-নবীনা‌ রায়, কলকাতা

রঙ নিউজ

“Scuba Diving” সমুদ্রপ্রেমীদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং অতিপ্রত্যাশিত Sea Excercise। বহু ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয় প্রফেশনাল স্কুবা ড্রাইভারদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সমুদ্রের নিচে। কিন্তু আজ এমন একটি ঘটনা আমাদের সামনে এসেছে যেটা আবার মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃতি সব সময় ভয়ংকর হয় না, প্রকৃতি নিজেও কখনো কখনো আশ্রয় খোঁজে কোনো সৎ মানবিক মানুষের কাছে। পেশাগতভাবে ক্রিস্টিনা একজন ইতালিয়ান মহিলা Scuba Diver। ১৯৯৬ সালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় পাল্টে দেয়। সমুদ্রের নিচে তিনি এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিন ডাইভিং করার সময় একটি হাঙর সরাসরি তার দিকে তেড়ে আসে। ক্রিস্টিনা খুবই ভয় পেয়ে ভেবেই নিয়েছিলেন সেটাই তার জীবনের শেষ দিন কিন্তু আক্রমণ করার পরিবর্তে,হাঙরটি তার চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং মুখের ভেতর আটকে থাকা একটি বড়শিকে বারবার ইঙ্গিত করে দেখানোর চেষ্টা করতে থাকে। তিনি সেটা বুঝতে পেরেই তৎক্ষণাৎ ঝুঁকি নিয়ে সেটি বের করে দেন। সেই মুহূর্তের পর থেকে,পরবর্তী ২০ বছর ধরে অন্যান্য আহত হাঙরও সাহায্যের জন্য তার কাছে আসতে শুরু করে।পরিবার এবং বন্ধুদের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, তিনি নিজের কোনো ক্ষতি ছাড়াই ৩৫০টিরও বেশি বড়শি অপসারণ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি এখন ‘Shark Ecologist and Behaviourist’ হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত। মানুষ সহজাত প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে,ভয়কেও বন্ধু বানাতে পারে। ক্রিস্টিয়ানা সেটিরই জ্যান্ত উদাহরণ।হাঙরদের সাথে তিনি এখন সমুদ্রের নিচে খেলা করেন, সময় কাটান। হাঙরগুলি সত্যিই তাকে ভালোবাসেন, কেউ কোনদিনও তার ক্ষতি করেনি, তারাও যেন এক প্রকৃত মানব বন্ধু পেয়েছে ।

ক্রিস্টিনা জেনাতো জানিয়েছেন, “পশুর শরীরে মানুষের তৈরি কোনো বস্তুর ক্ষয় হয়ে যাওয়াকে যারা “প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া” বলে যুক্তি দেখান, তাদের জীববিজ্ঞান এবং সহানুভূতি—উভয় বিষয়েই শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এটি পৃথিবীর সব হাঙরকে বাঁচানোর বিষয় নয়, এটি হলো আমি যেসব হাঙরকে সাহায্য করতে পারি তাদের জীবনে একটি পরিবর্তন আনা। সদয় কোনো কাজকে এই ধরনের অজুহাত দিয়ে বিতর্কিত করা—যেমন, আমরা সবসময় হুক সরাতে পারি না, মাঝে মাঝে সুতো ছিঁড়ে যায়, হুকটিতে জং ধরে যাবে, হাঙররা ব্যথা পায় না—আমার মতে, এটি আসলে নিজেদের অপরাধবোধ আড়াল করার চেষ্টা। আমার লক্ষ্য হলো আমি যতটুকু পারি হাঙরদের সাহায্য করা, তাদের গল্প ও দুর্দশার কথা সবার সামনে তুলে ধরা এবং তাদের উদাহরণ ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আমাদের তাদের বোঝার, মূল্যায়ন করার এবং রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও সচেতনতা তৈরি করা। যেমনটা একদা এনজো মাইওরকা বলেছিলেন, ‘যতদিন না মানবজাতি পশুজগতকে সম্মান করতে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করতে শিখবে, ততদিন আমরা এই পৃথিবীতে আমাদের প্রকৃত ভূমিকা জানতে পারব না।'”

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী

এডিটর – দিব্যেন্দু দাস

এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *