১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন: দীর্ঘ নির্বাসনের অবসানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ, নতুন করে চর্চায় প্রত্যাবর্তন
দিব্যেন্দু দাস, রঙ নিউজ
প্রায় উনিশ বছর পর ফের কলকাতায় এলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার তিনি দমদমের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তসলিমা বলেন, কলকাতায় ফিরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং সকলের শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞ।

কলকাতায় আসার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি সফরের কথা জানিয়ে লেখেন যে তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সেই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই তাঁর আগমন ঘিরে জল্পনা ও কৌতূহল বাড়তে শুরু করে।
শনিবার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। একাধিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের সাহিত্যকর্ম, কবিতা ও সংগীতকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্বের আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকদের বক্তব্য, এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে সাহিত্য ও সংস্কৃতিনির্ভর। তাঁদের দাবি, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়। একই সঙ্গে তাঁরা জানান, লেখিকার নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়তে হয়। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও তাঁর কলকাতায় প্রত্যাবর্তন বাস্তবে আর সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর এই সফর শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ নয়; মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্যচর্চা এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও এই প্রত্যাবর্তন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে আয়োজকদের বক্তব্য, তাঁদের লক্ষ্য একমাত্র একজন লেখককে তাঁর প্রিয় শহরে স্বাগত জানানো এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করা।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
